হোম > বিনোদন > বলিউড

যে কারণে মহেশ ভাটকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ওশো

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ওশোর আশ্রমে মহেশ ভাট ও বিনোদ খান্না। ছবি: সংগৃহীত

সত্তর ও আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে যখন বিনোদ খান্না জনপ্রিয়তার মধ্যগগনে, তখন তাঁর একটি সিদ্ধান্ত পুরো বলিউডকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। অমিতাভ বচ্চনের পরেই যার নাম উচ্চারিত হতো, সেই বিনোদ নিজের সাজানো ক্যারিয়ার, পরিবার এবং গ্ল্যামার জগৎ ছেড়ে ওশো রজনীশের অনুসারী হয়ে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন। সম্প্রতি আরবাজ খানের চ্যাট শো-তে পরিচালক মহেশ ভাট এই ঘটনার নেপথ্যের অনেক অজানা এবং নাটকীয় অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন।

মহেশ ভাট জানান, ক্যারিয়ারের এক অত্যন্ত কঠিন ও টালমাটাল সময়ে তিনি আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে পুনের ওশো আশ্রমে যাতায়াত শুরু করেছিলেন। ভাট একে ‘আধ্যাত্মিক সুপারমার্কেট’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ওশোর সম্মোহনী ব্যক্তিত্বে এতটাই মুগ্ধ ছিলেন যে গেরুয়া বসন পরে দিনে পাঁচবার ধ্যানও করতেন। ভাট স্বীকার করেন, তাঁর মাধ্যমেই বিনোদ খান্না ওশোর সান্নিধ্যে আসেন। তবে ভাট খুব দ্রুত মোহমুক্ত হয়ে ফিরে এলেও বিনোদ খান্না সবকিছু ত্যাগ করে ওশোর আশ্রমে পাকাপাকিভাবে থেকে যান।

মহেশ ভাট বলেন, ‘আমি একসময় অনুভব করলাম যে, মুখে পবিত্র কথা বলছি ঠিকই কিন্তু ভেতরে হিংসা ও হীনম্মন্যতা পুষে রাখছি। নিজেকে প্রচণ্ড ভণ্ড ও মিথ্যাবাদী মনে হওয়ায় আমি আমার মালাটি ছিঁড়ে কমোডে ফেলে দিয়েছিলাম। আমি নিজেকে আর ধোঁকা দিতে পারছিলাম না।’

মহেশ ভাট ওশোর সঙ্গ ত্যাগ করার পর গুরু অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। বিনোদ খান্নার মাধ্যমে ভাটকে একটি সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ভাট সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘বিনোদ ফিল্মিস্তান থেকে ফোন করে আমাকে বলেছিল যে ভগবান (ওশো) খুব রেগে আছেন। বিনোদের গলা তখন বেশ নিচু ছিল। সে বলেছিল, ভগবান তোমাকে আদেশ দিয়েছেন যেন তুমি নিজে এসে তাঁর হাতে মালাটি ফিরিয়ে দাও, অন্যথায় তিনি তোমাকে ধ্বংস করে দেবেন।’

ভাট পাল্টা উত্তরে বিনোদকে বলেছিলেন, ‘আমি একটা আস্ত গাধা ছিলাম, এইসবের পেছনে সময় দিয়েছি। ওই মালাটি এখন মূল্যহীন।’

ওশোর আশ্রমে মহেশ ভাট ও বিনোদ খান্না। ছবি: সংগৃহীত

ওশো তাঁর ‘দ্য ৯৯ নেমস অব নাথিংনেস’ বইতেও মহেশ ভাট সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন। ওশোর মতে, মহেশ ভাটের তৎকালীন প্রেমিকা তাঁকে ওশোর পথ থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। মহেশ ভাটকে ‘ইঁদুর’ বলে অভিহিত করে ওশো লিখেছিলেন, যখন কোনো পুরুষ তাঁর ক্ষমতা হারিয়ে নারীর মায়াজালে আটকা পড়ে বা নতি স্বীকার করে, তখন সে আধ্যাত্মিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। ওশো দাবি করেছিলেন, মহেশ ভাট তাঁর প্রেমিকার কাছে পরাজিত হয়েছেন, এই কারণেই তিনি আশ্রম ত্যাগ করেছেন।

ওশোর আমেরিকা অভিযান এবং অরিগন আশ্রমের পতন হওয়ার পর বিনোদ খান্না যখন মুম্বাইয়ে ফিরে আসেন, তখন তাঁর সেই পুরোনো মহিমা ম্লান হয়ে গিয়েছিল। মহেশ ভাট সেই পুনর্মিলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি একবার আমেরিকায় গিয়েছিলাম তাঁকে ফিরিয়ে আনতে, কিন্তু তিনি তখন অনেক দূরে চলে গেছেন। যখন তিনি ফিরে এলেন, জাসলোক হাসপাতালের উল্টোদিকের একটি ছোট ফ্ল্যাটে তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়।’

ভাট যোগ করেন, ‘আমরা এক সন্ধ্যায় প্রচুর মদ্যপান করেছিলাম, কিন্তু বিনোদ খুব অল্প কথা বলছিলেন। তাঁর চোখের সেই পুরোনো আগুন আর ছিল না। তিনি বড় একা ও ভেঙে পড়েছিলেন।’

মুম্বাই ফিরে আসার পর বিনোদ খান্না ‘ইনসাফ’ এবং ‘সত্যমেভ জয়তে’ (১৯৮৭)-এর মতো কিছু ব্যবসা সফল সিনেমা দিয়ে কামব্যাক করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘চাঁদনি’, ‘দয়াবান’ এবং অনেক পরে ‘দাবাং’-এর মতো সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। তবে সত্তরের দশকে তিনি যে রাজকীয় উচ্চতায় ছিলেন, সেখানে আর পৌঁছাতে পারেননি। এরপর তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন এবং জনসেবার মাধ্যমে বাকি জীবন অতিবাহিত করেন।

মহেশ ভাট এবং বিনোদ খান্নার এই ওশো-অধ্যায় আজও বলিউডের ইতিহাসে গ্ল্যামার ও আধ্যাত্মিকতার দ্বন্দ্বের এক করুণ কাহিনি হিসেবে রয়ে গেছে।

‘চুরি করা জমিতে কেউ অবৈধ হয় না’—গ্র্যামি মঞ্চে প্রতিবাদমুখর শিল্পীরা

গ্র্যামির মঞ্চে কেনড্রিক লামারের রেকর্ড

জেলে যাওয়ার পর প্রেম ভেঙেছে ফারিয়ার

ভাষা দিবসের বিশেষ নাটক ‘চিঠিওয়ালা’

ম্যাজিক বাউলিয়ানা চ্যাম্পিয়ন গাজীপুরের সোহাগ নূরী

এ মাসেই বিজয় ও রাশমিকার বিয়ে

অনিরাপদ শহর দাবি করে লন্ডনে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ফেলে গেলেন টম ক্রুজ

‘প্রিন্স’ লুকে দেখা দিলেন শাকিব খান

ভুল নামে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

চ্যানেল আইয়ে জাতীয় পুরস্কারজয়ী ৪ সিনেমা