রিয়েলিটি শো
দেশের পর্যটনশিল্পকে আরও জনপ্রিয় করতে শুরু হয়েছে ‘চলো ঘুরে আসি’ শিরোনামের এক নতুন উদ্যোগ। এই প্রকল্পে ভ্রমণভিত্তিক গল্প নিয়ে তৈরি হবে ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। তাতে অভিনয় করবেন নতুন শিল্পীরা। শিল্পী নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন নির্মাতা অনিমেষ আইচ, অভিনেত্রী নাজনীন হাসান চুমকী ও রিচি সোলায়মান।
মার্কেটার্স ৩৬০ ডিগ্রি আয়োজিত এই মেগা প্রজেক্ট মূলত দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথমত, দেশব্যাপী অভিনয়শিল্পী অন্বেষণ কার্যক্রম ‘ফেস অব টুমরো’, যার মাধ্যমে নতুন প্রতিভা তুলে আনা হবে। আর দ্বিতীয়ত, সেই নির্বাচিত নতুন মুখদের নিয়ে তৈরি হবে ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এসব সিনেমা নির্মিত হবে দেশের অপেক্ষাকৃত অপ্রচলিত লোকেশনে। বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও যেসব স্থান ভ্রমণের গন্তব্য হিসেবে অতটা জনপ্রিয় নয়।
অভিনয়শিল্পী অন্বেষণ কার্যক্রম ফেস অব টুমরোর মাধ্যমে যেসব নতুন মুখ নির্বাচিত হবেন, তাঁদের নিয়ে আয়োজিত হবে ২০ দিনের গ্রুমিং বুটক্যাম্প। অভিনয় ও ক্যামেরা পারফরম্যান্সসহ পেশাদার দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সেখানে। পুরো প্রক্রিয়াটির বিচারক ও মেন্টর হিসেবে আছেন অনিমেষ আইচ, নাজনীন হাসান চুমকী ও রিচি সোলায়মান।
বিষয়টি নিয়ে অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান বলেন, ‘এটা আমাদের অনেক বড় একটা অর্জন হবে, যখন আমরা ২০ জন শিল্পী পাব, পারফরমার পাব। ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক ধরনের কাজে তাঁদেরকে আমরা যুক্ত করতে পারব।’
অভিনেত্রী নাজনীন হাসান চুমকী বলেন, ‘যেসব নির্মাতা সিনেমাগুলো বানাবেন, তাঁরা নিজেদের গল্প অনুযায়ী শিল্পী বেছে নেবেন। আমরা যাঁরা বিচারক হিসেবে আছি, তাঁরাও সেসব স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার স্ক্রিপ্ট পড়ব। সুতরাং আমাদের কোন ধরনের শিল্পী লাগবে, সেটা মাথায় রেখেই আমরা শিল্পী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’
নির্মাণাধীন এই ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্যের একটি পরিচালনা করছেন কচি খন্দকার। তিনি বলেন, ‘আমার সিনেমার নাম রেখেছি ‘‘মায়ানীড়’’। এর গল্পের মাধ্যমে আমি দর্শকদের কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাব। কুষ্টিয়ার বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব যাঁরা আছেন এবং আমাদের যেসব ঐতিহ্যগত জায়গা আছে; সেসবের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় করিয়ে দেব।’
কচি খন্দকার ছাড়াও পরিচালকদের এই তালিকায় রয়েছেন মাহমুদা সুলতানা রীমা, জাহিদ প্রীতম, প্রীতি দত্ত, আলোক হাসান, মাইদুল রাকিব, শ্রাবণী ফেরদৌস, মুহাম্মাদ মিফতাহ আনান, ইফতেখার ইফতি ও রিজওয়ানুল ইসলাম সানজিদ। এ বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবসে এই ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা প্রচারিত হবে নাগরিক টিভিতে। পরবর্তী সময়ে মুক্তি পাবে চলো ঘুরে আসি নামক ইউটিউব চ্যানেলে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান মার্কেটার্স ৩৬০ ডিগ্রি জানায়, চলো ঘুরে আসি প্রজেক্টের মাধ্যমে দেশের অদেখা গন্তব্যগুলোকে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির অংশগ্রহণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশীয় পর্যটন খাতের টেকসই বিকাশে কাজ করা হবে। পুরো আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে টাইম ফর ট্রাভেল। এরই মধ্যে ফেস অব টুমরোর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, চলবে ৩১ মে পর্যন্ত।