নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘অ্যাডোলেসেন্স’ গত বছর হইচই ফেলে দিয়েছিল বিশ্বজুড়ে। ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলপড়ুয়ার হাতে তার সহপাঠী খুন হওয়ার গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে সিরিজটি। তবে অ্যাডোলেসেন্সের উদ্দেশ্য ছিল, এই সময়ের কিশোরদের মনস্তত্ত্বের অনুসন্ধান। এই ব্রিটিশ সিরিজ সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, কত নীরবে কত ভয়ংকর ঘটনা ঘটে চলেছে কিশোরদের মনোজগতে। গ্যাজেট, সোশ্যাল মিডিয়া আর অনলাইন কনটেন্টে ডুবে গিয়ে কতটা বিষিয়ে উঠছে তাদের মন।
অ্যাডোলেসেন্সের কাহিনি প্রত্যেককে নতুন করে ভাবিয়েছে। গত বছরের মার্চে মুক্তির পর থেকে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ছিল, এর কাহিনি কি এখানেই শেষ, নাকি আসবে দ্বিতীয় সিজন! তবে নির্মাতারা বিষয়টি নিয়ে কিছু বলেননি। অবশেষে এত দিনে দ্বিতীয় সিজনের ব্যাপারে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেল।
চার পর্বের এই লিমিটেড সিরিজ গত বছর এবং চলতি বছরও প্রতিটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একাধিক পুরস্কার জিতেছে। এমি, ক্রিটিকস চয়েসের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে সাড়া ফেলার পর সর্বশেষ গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসেও চারটি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে অ্যাডোলেসেন্স। এ আসরে যোগ দেন সিরিজটির অভিনেতা ও সহলেখক স্টিফেন গ্রাহাম। লিমিটেড সিরিজ বিভাগে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান তিনি। গোল্ডেন গ্লোবসের ব্যাকস্টেজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় স্টিফেন গ্রাহাম ইঙ্গিত দেন, অ্যাডোলেসেন্স সিরিজের দ্বিতীয় সিজন নির্মাণের পরিকল্পনা আছে তাঁদের।
প্রথম থেকেই নির্মাতাদের পরিকল্পনা ছিল, এক সিজনেই শেষ হবে অ্যাডোলেসেন্সের গল্প। তাই লিমিটেড সিরিজ হিসেবে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার পর সিকুয়েল নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন নির্মাতারা। স্টিফেন গ্রাহাম বলেন, ‘দ্বিতীয় সিজন তৈরি হবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর এখনই দিচ্ছি না। তবে আমি ও চিত্রনাট্যকার জ্যাক থর্ন বিষয়টি নিয়ে ভাবছি, পরিকল্পনা করছি। আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে নতুন সিজন আসতে পারে। দর্শকদের অনুরোধ করব, আমাদের সঙ্গে থাকুন।’
এর আগে ডেডলাইন ম্যাগাজিনও জানিয়েছিল, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্লান বি এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাডোলেসেন্সের দ্বিতীয় সিজন তৈরির কথা ভাবছে। তবে নতুন সিজনের গল্প হবে সম্পূর্ণ আলাদা।