এক বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক। ২০২৪ সালের শেষ দিকে দেশ ছাড়ার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছিলেন সাইমন। পেশাগত সংকটের কথা উল্লেখ করে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিকল্প পেশায় জড়ানোর। এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে জানালেন সেই খবর। নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন এই অভিনেতা। ‘মহাসঞ্চারি’ নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য বানিয়েছেন তিনি। এ মাসেই অদ্রিতা মুভিজ ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে এটি।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগেই মহাসঞ্চারি স্বল্পদৈর্ঘ্যটি পরিচালনার কাজ শেষ করেছিলেন সাইমন। শুটিং হয়েছে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে। প্রথম নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গল্প জানিয়ে সাইমন বলেন, ‘স্বল্পদৈর্ঘ্যটি আগে একজন নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু প্রযোজক খোকন কুমার রায়ের পছন্দ না হওয়ায় সেটা প্রকাশ করা হয়নি। প্রযোজকের সঙ্গে আমার অনেক দিনের ভালো সম্পর্ক। সেই সুবাদে আমাকে একদিন প্রোডাকশনটি দেখান তিনি। দেখার পর আমি এটা নতুন করে নির্মাণের বিষয়ে সম্মতি জানাই। এরপর চিত্রনাট্য পরিমার্জন করি, চরিত্রদের লুক সেট করি, গানের রেকর্ডিং করি। সবকিছু গোছানো হয়ে গেলে শুটিং শুরু করি।’
স্বল্পদৈর্ঘ্যটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন খোকন কুমার রায়, সাহানা সুমি, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, অরুণ চৌধুরী, সীমান্ত আহমেদ প্রমুখ।
মহাসঞ্চারির গল্প নিয়ে সাইমন বলেন, ‘স্বল্পদৈর্ঘ্যটির গল্প একজন সংগীতশিল্পীকে নিয়ে। সাধারণ মানুষ যেভাবে জীবনযাপন করে, সে তেমন না। মানুষ তো এখন ভাইরাল হতে চায়। কিন্তু এই গায়ক তা চায় না। ঘটনাক্রমে ভাইরাল হয়ে যায় সে। বিঘ্নিত হয় তার স্বাভাবিক জীবন। অথচ সে এটা চায়নি। আপন ভুবনে নিজের মতো করে বাঁচতে চেয়েছিল সে। এমন গল্পই দেখা যাবে মহাসঞ্চারি স্বল্পদৈর্ঘ্যে।’
২০১২ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘জ্বী হুজুর’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু সাইমনের। সাইমন জানান, তাঁর গুরু জাকির হোসেন রাজুকে দেখেই নির্মাণের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি। সাইমন বলেন, ‘সরাসরি অ্যাসিস্ট না করলেও আমার ওস্তাদ জাকির হোসেন রাজুর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাটিয়েছি। তাঁর কাছ থেকে নির্মাণের অনেক কিছু শেখা হয়েছে। তবে এখনো নিজেকে নির্মাতা মনে করছি না। নির্মাতা অনেক বড় শব্দ। এটা আসলে টিমওয়ার্ক।’
ভবিষ্যতে নির্মাণ নিয়ে বড় পরিকল্পনা আছে সাইমনের। তিনি সিনেমা বানাতে চান। সাইমন বলেন, ‘আমি স্বপ্নবাজ মানুষ। ভবিষ্যতে নির্মাণ নিয়ে বড় কিছু করার পরিকল্পনা আছে। চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখি। বড় আকারেই সিনেমা বানাতে চাই। সব শ্রেণির মানুষ হলে এসে দেখবে, এমন সিনেমা বানাতে চাই।’
দেশের বাইরে থাকলেও দেশকে সব সময় মিস করেন বলে জানান অভিনেতা। সাইমন বলেন, ‘আমি ছেড়ে আসা, ফেলা আসা মানুষ। ওই সময়টা নিশ্চয়ই অনেক সুন্দর ছিল। দেশে পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো সময় সবকিছু। এখন অনেক বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে গেছি। তারপরও জীবনের নিয়মে জীবন চলে। যারা দেশের বাইরে থাকে, তারা অনেক বড় স্বপ্ন দেখে। সময়স্বল্পতা বা অন্যান্য কারণে পুরোটা হয়তো বাস্তবায়িত হয় না। আমারও অনেক স্বপ্ন।’
কবে দেশে ফিরবেন জানতে চাইলে সাইমন বলেন, ‘ইচ্ছা আছে আগামী বছর রোজার ঈদে দেশে আসার।’