সময়ের সঙ্গে সিনেমা দেখার মাধ্যম অনেকটা বদলে গেছে। সিঙ্গেল স্ক্রিনের যুগ পেরিয়ে দর্শকের কাছে দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সিনেপ্লেক্স। এই ঈদে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লায় চালু হচ্ছে দুটি সিনেপ্লেক্স। এ ছাড়া ছয় মাস বন্ধ থাকার পর ফের চালু হচ্ছে বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স। পাশাপাশি প্রতিবছরের মতো এ ঈদেও খুলছে বন্ধ থাকা একাধিক সিঙ্গেল স্ক্রিন।
নারায়ণগঞ্জে স্টার সিনেপ্লেক্স
নারায়ণগঞ্জের জালকুঁড়িতে অবস্থিত সীমান্ত টাওয়ারে চালু হচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্সের নতুন শাখা। ঈদের দিন এটি উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। নতুন এই মাল্টিপ্লেক্সে রয়েছে তিনটি হল। যার মধ্যে দুটি হলের প্রতিটিতে ১৭৮ আসন এবং ১টি হলে থাকছে ৭৫টি আসন। স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া ও মার্কেটিং বিভাগের এজিএম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য ঈদের উপহার। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার দর্শকদের একটি আধুনিক মাল্টিপ্লেক্সের চাহিদা ছিল। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শাখাটি চালু করতে পেরে আমরা সন্তুষ্টি বোধ করছি।’ মেসবাহ উদ্দিন আরও জানান, এ বছর স্টার সিনেপ্লেক্সের আরও কিছু শাখা চালুর প্রস্তুতি চলছে। বড় শহরগুলোর পর পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও স্টার সিনেপ্লেক্সকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কুমিল্লায় কে স্ক্রিন সিনেপ্লেক্স
এই ঈদে প্রথমবার কুমিল্লা শহরে চালু হচ্ছে সিনেপ্লেক্স। ঈদের দিন উদ্বোধন হবে কে স্ক্রিন সিনেপ্লেক্সের। এটি শহরের ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় গোমতি শপিং সেন্টারের আটতলায় অবস্থিত। কে স্ক্রিন সিনেপ্লেক্সের কর্ণধার চলচ্চিত্র প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু জানান, এ সিনেপ্লেক্সে ২০০ ও ২৫০ আসনের দুটি স্ক্রিন থাকছে। এতে ৮:১ সাউন্ড সিস্টেম ও ডিসিপি প্রজেকশন ব্যবহার করা হয়েছে। আছে ফুড কোর্টও। সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়েছে। খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘আমরা আগে বলতাম প্রযোজকেরা যদি বেঁচে থাকেন তাহলে চলচ্চিত্র বেঁচে থাকবে। এখন আমরাই বলছি সিনেমা হল বেঁচে থাকলে প্রযোজকেরা বাঁচবেন, বেঁচে থাকবে ইন্ডাস্ট্রি। তাই সিনেপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা।’ খসরু আরও জানান, ইতিমধ্যে ঢাকায় কে স্ক্রিন সিনেপ্লেক্সের আরও দুটি শাখার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে কে স্ক্রিন সিনেপ্লেক্সের ২০-২৫টি শাখা তৈরির পরিকল্পনা তাঁদের।
ফের চালু মধুবন সিনেপ্লেক্স
গত বছরের সেপ্টেম্বরে লোকসানের কারণ দেখিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স। এর পর থেকে হলটি কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিল। আবার সিনেমা নিয়ে ফিরছে মধুবন সিনেপ্লেক্স। বন্ধ ঘোষণার প্রায় ছয় মাস পর এই রোজার ঈদে আবার চালু হচ্ছে মধুবন। ঈদের দিন থেকে দর্শক এখানে সিনেমা দেখতে পারবেন। মধুবন সিনেপ্লেক্সের মালিক আর এম ইউনুস রুবেল বলেন, ‘সিনেপ্লেক্স চালু রাখতে ভালো সিনেমা দরকার। দেশে সুস্থ বিনোদনের ভালো সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি টালিউড, বলিউড ও হলিউডের সিনেমা আমদানির উদ্যোগ না নিলে কোটি কোটি টাকা লগ্নি করে নির্মিত সিনেপ্লেক্স টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।’
এই ঈদেও খুলছে মৌসুমি সিনেমা হল
কমতে কমতে সারা বছর চালু থাকা প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা এখন ৫০টির কম। তবে ঈদের সময় এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। কারণ, সারা বছর বন্ধ থাকা কিছু হল চালু হয় ঈদ উপলক্ষে। এবারও ঈদে নিয়মিত ও মৌসুমি হল মিলিয়ে ১০০টির বেশি সিঙ্গেল স্ক্রিন চালু থাকবে। তালিকায় আছে প্রায় এক দশক বন্ধ থাকা টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কস্তুরী সিনেমা হল। জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে নতুন ব্যবস্থাপনায় মাসিক ভাড়া চুক্তিতে হলটি পুনরায় চালু করা হচ্ছে।