গ্রীষ্মের তীব্র রোদে চারপাশ অনেকটা ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। এর মধ্যেও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে জারুল ফুলের বেগুনি রং এনে দেয় একধরনের স্বস্তি। পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে এই মৌসুমি সৌন্দর্য।
এ সময়ে ক্যাম্পাসজুড়ে বেগুনি রঙের আধিপত্য দেখা যায়। সবুজের মাঝে হঠাৎ হঠাৎ ফুটে ওঠে জারুল ফুল। সরোবর লেকের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো যেন একেকটি জীবন্ত চিত্রকর্মে রূপ নেয়।
ভোরের আলো পানির গায়ে পড়লে জারুলের বেগুনি পাপড়িগুলো ধীরে ধীরে জেগে ওঠে। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা ফুল ও পাতায় পুরো এলাকা যেন এক শান্ত নিশ্বাসে ভরে ওঠে।
শহীদ মিনার এলাকা এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দক্ষিণ পাশেও জারুলের উপস্থিতি চোখে পড়ে। ক্লাস শেষে বা অবসরে শিক্ষার্থীরা এসব জায়গায় বসে সময় কাটান—কেউ পড়াশোনা করেন, কেউ কেউ মেতে ওঠেন আড্ডায়।
বিকেলের দিকে সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়লে জারুল ফুলের রং আরও গভীর হয়ে ওঠে। আলো-ছায়ার এই মিশ্রণ ক্যাম্পাসকে একধরনের নরম, মায়াবী রূপ দেয়।
জারুলের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের কিছু জায়গায় কৃষ্ণচূড়ার লাল রংও দেখা যায়। কৃষ্ণচূড়ার লাল আর জারুলের বেগুনি মিলিয়ে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে আরও রঙিন ও জীবন্ত।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই জারুলময় পরিবেশ ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের অনুভূতির অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনের ব্যস্ততার ভেতরেও এই ফুলগুলো যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রকৃতি তার নীরব ভাষায় সৌন্দর্য আর শান্তির কথাই বলে যায়।