হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্ভরের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাবির সিনেট ভবনে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি ফর হেলথকেয়ার ইন এলএমআইসি’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

স্বাস্থ্যসেবায় আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরা সীমিত সম্পদ নিয়েও যুগোপযোগী ও কার্যকর স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের সক্ষমতা রাখেন। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবনকে আরও উৎসাহিত করতে হবে।

আজ রোববার (৫ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শুরু হওয়া ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি ফর হেলথকেয়ার ইন এলএমআইসি’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে রোগ নির্ণয় আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দেশীয় গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রণোদনা দেওয়া হবে। বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন সম্ভব হবে, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, দেশের কিছু হাসপাতালে এক কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু ও হাম মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও নার্সদের ধৈর্য, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিমেডিসিন কার্যক্রমের প্রশংসা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ প্ল্যাটফর্মে অনলাইন ১২-লিড ইসিজি ও ইলেকট্রনিক স্টেথোস্কোপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে। সরকারের নতুন গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির সঙ্গে এসব প্রযুক্তির সমন্বয় করা গেলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত মানবকল্যাণে জ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রয়োগ। তিনি বলেন, স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও টেকসই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন সময়ের অন্যতম বড় প্রয়োজন।

উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও মৌলিক বিজ্ঞানের সমন্বয়ে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে। দেশীয় গবেষণার মাধ্যমে টেলিমেডিসিন, ডায়াবেটিক ফুট কেয়ার, নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ নির্ণয় প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন। সম্মেলনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিকস অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অনারারি অধ্যাপক খোন্দকার সিদ্দিক-ই রব্বানী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌফিক হাসান স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং এ খাতে উদ্যোক্তা তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এফ এম সিদ্দিকী, জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ এবং যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক বি এইচ ব্রাউন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিকস অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগ, বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ, বাইবিট লিমিটেড এবং রিলেভেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি সোসাইটি, বাংলাদেশ যৌথভাবে সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নীতিনির্ধারক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করছেন। কনফারেন্সের কারিগরি অধিবেশনগুলোতে প্রসব-উত্তর রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ, শিশুদের স্নায়বিক বিকাশ, ডায়াবেটিক ফুট আলসার প্রতিরোধ, কম খরচের চিকিৎসা প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যপ্রযুক্তিতে বৈষম্য কমাতে ‘গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজি ফর ম্যানকাইন্ড’ এবং ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইকুয়ালাইজিং অ্যাকসেস টু হেলথকেয়ার টেকনোলজি’ নামে দুটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাবও সম্মেলনে উত্থাপন করা হয়েছে।

কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে ক্যানসার চিকিৎসা, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, হাসপাতালজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ, স্বল্পমূল্যের চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে একাধিক কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।

গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে হাবিপ্রবি

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যখন জার্মানি: সেরা ৬ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে জেনে নিন

সামিরার যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন জয়

কিশোর উদ্ভাবকের বিশ্বজয়

গণ বিশ্ববিদ্যালয় পাঠকবন্ধুর নতুন নেতৃত্বে সালেহীন-তনু

৯ মাসেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ ডাকসু—অভিযোগে নতুন নির্বাচনের দাবি ছাত্র ইউনিয়নের

ডিআইইউ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি খায়ের, সম্পাদক নুর

সামার সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাল সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি

প্রতিষ্ঠার ১০৬ বছর: আবাসন, খাবার, পরিবহন ও গবেষণা সংকটে ভারাক্রান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জবিতে ৩৩০ কোটি টাকার বাজেট, গবেষণা ও পরিবহনে নেই বরাদ্দ