দেশের একটি ছোট্ট শহর। সেখানকার ছোট্ট একটি মেয়ে। বয়স মাত্র আট। অথচ স্বপ্ন তার আকাশছোঁয়া। সেই স্বপ্নের ডানায় ভর করে বাংলাদেশের নাম লিখিয়েছে এশিয়ার শীর্ষে। বলছি গাজীপুরের কালিয়াকৈরের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিনা নূর তাজের কথা। বর্তমানে এশিয়ার সেরা খুদে ইংরেজি প্রতিযোগী সে।
সম্প্রতি থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হিপ্পো ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ অলিম্পিয়াড-২০২৬-এ সে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এই সাফল্যে গর্বিত তার পরিবার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ সহপাঠীরাও। এখন কালিয়াকৈর ছাপিয়ে সামিনা নূর তাজ এখন দেশের গর্ব।
জামালপুর জেলার মেস্তা গ্রামে তাজের জন্ম। বর্তমানে পরিবারসহ থাকে কালিয়াকৈরে। ২০২৩ সালে আফাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাক্-প্রাথমিক শাখায় নার্সারিতে ভর্তি হয়। এরপর একে একে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সে। প্রতিবারই নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখে।
তবে এবারের পথ ছিল সবচেয়ে কঠিন। সাফল্যের জন্য পেরোতে হয়েছে একের পর এক ধাপ। গত ২৫ এপ্রিল ঢাকার বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ হয় তাজ। ২৩ মে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পর্বে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।
এরপর ৩ জুলাই থাইল্যান্ডের হিপ্পো ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ অলিম্পিয়াড ২০২৬-এ অংশ নিয়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে এশিয়ায় প্রথম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের এই খুদে শিক্ষার্থী।
তাজ জানায়, এই অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান তার শিক্ষক, বিদ্যালয় এবং বাবা-মায়ের।
এখানেই শেষ নয়। সামনে আরও বড় মঞ্চ অপেক্ষা করছে তাজের জন্য। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে হিপ্পো ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ অলিম্পিয়াডের ইউনিভার্সাল রাউন্ড। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়বে বাংলাদেশের এই ছোট্ট প্রতিনিধি।
মা তাজিমা খাতুন বলেন, ‘মেয়ে ভবিষ্যতে যা হতে চাইবে, আমরা তাকে সেই পথে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করব। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।’
বাবা সানোয়ার হোসেন মামুনের স্বপ্নও অনেক বড়। তিনি চান, একদিন মেয়ে বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচিত হোক। তাঁর ভাষায়, ‘এশিয়ার প্রথম হওয়ায় আমরা ভীষণ গর্বিত। ইতালির বিশ্বপর্যায়ের আসরেও সে ভালো স্থান পাবে, এটাই আমাদের বিশ্বাস।’
তাজের সাফল্যে আনন্দে ভাসছে তার বিদ্যালয়ও। সম্প্রতি আফাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ দিলওয়ার হোসেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আলহাজ মো. জলিল উদ্দিন ঘোষণা দিয়েছেন, তাজের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সব ব্যয় বহন করবে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তা-ই নয়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয়ও বহন করা হবে।
জলিল উদ্দিন বলেন, ‘তাজ এশিয়ায় প্রথম হয়েছে, খবরটি শুনে আনন্দে আমার চোখে পানি চলে আসে। সে শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠানের নয়, গাজীপুর ও বাংলাদেশের গর্ব। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও সে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে। তার শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে আমরা পাশে থাকব।’