প্রতিবছর দেশের লক্ষাধিক শিক্ষার্থী মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির স্বপ্ন নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন। এবারও সরকারি ও বেসরকারি এমবিবিএস-বিডিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। পাসের হার ৬৬.৫৭ শতাংশ। এর মধ্যে মেধা পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ৫ হাজার ৬৪৫ শিক্ষার্থী। ভর্তির কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। তাঁরা এখন সাদা অ্যাপ্রোন গায়ে জড়ানোর অপেক্ষায়। এ বছর ভর্তির সুযোগ পাওয়া চার নবাগত মেডিকেল শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তাঁদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা ও লক্ষ্যের কথা। লিখেছেন রাদিয়া শানজান ইশমা।
পেশার চেয়ে সেবার জায়গা বেশি দেখতে চাই
নাঈমা ইসলাম ইকরা, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন মুহূর্তগুলোর একটি। দীর্ঘ প্রস্তুতি, অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার পর এই অর্জন আমার কাছে শুধু সাফল্য নয়; বরং নতুন দায়িত্বের সূচনা। এই পথে পৌঁছাতে পারায় মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই; পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষকদের অবদানও স্মরণ করি।
এই তো কিছুদিন পর ক্লাস শুরু হবে। একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। সাদা অ্যাপ্রোনকে আমি শুধু পরিচয়ের প্রতীক নয়, মানবতার সেবার অঙ্গীকার হিসেবে নিতে চাই। প্রথম দিন থেকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সহানুভূতিশীল পরিবেশে নিজেকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে চাই। একজন দায়িত্বশীল মানুষ ও চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই। ভবিষ্যতে একজন ভালো পেডিয়াট্রিশিয়ান হয়ে শিশুস্বাস্থ্যে কাজ করার ইচ্ছা আমার। চিকিৎসাকে পেশার চেয়ে বেশি সেবার জায়গা হিসেবে দেখতে চাই।
সাধারণ মানুষের পাশে থাকার ইচ্ছা
মুশফিকুর রহমান খান, এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, সিলেট
মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার অনুভূতি ছিল সত্যিই ভিন্ন রকম। প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। তাই ফল দেখার পর কয়েকবার যাচাই করে নিশ্চিত হতে হয়েছিল। আমার পরিবারের কেউ চিকিৎসক নন, তাই এ সাফল্য পরিবারের জন্যও বিশেষ আনন্দের। তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারাটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। শিগগির মেডিকেল জীবনে প্রবেশ করছি; আছে খানিকটা ভয়, আছে অনেক স্বপ্নও। নতুন ক্যাম্পাস, নতুন পরিবেশ আর সহপাঠীদের সঙ্গে পথচলা শুরু হবে। প্রথম দিনেই ‘মেডিকেল ওথ’ গ্রহণ করে শপথের মূল্যবোধ ধারণ করতে চাই। সমাজে চিকিৎসক মানেই সম্পদের ধারণা প্রচলিত। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, চিকিৎসা মানুষের সেবার জন্য। ভবিষ্যতে একজন মানবিক ও দায়িত্বশীল চিকিৎসক হয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই।
গাইনোকোলজিস্ট হয়ে মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য
তাসনিয়া জাহান, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের একটি স্মরণীয় অর্জন। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরিশ্রমের ফল হিসেবে এই সাফল্য আমাকে আনন্দিত করেছে এবং আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। স্বপ্নের এত কাছে পৌঁছাতে পেরে যেমন গর্ববোধ করছি, তেমনি পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেও অনুপ্রাণিত হচ্ছি।
মেডিকেলের প্রথম দিনটি আমার কাছে নতুন অধ্যায়ের শুরু। ইতিবাচক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা রাখি। সহপাঠীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় চিকিৎসাশাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করতে চাই। ভবিষ্যতে গাইনোকোলজিস্ট হয়ে নারীস্বাস্থ্য, বিশেষ করে মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করতে কাজ করাই আমার মূল উদ্দেশ্য।
দরিদ্র মানুষের দোয়া সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই
মাহাবী হক মারুফ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, বগুড়া
মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সবার আগে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এরপর মা-বাবা ও শিক্ষকদের প্রতি ঋণ স্বীকার করি। এ ছাড়া যাঁদের সমর্থন ও দিকনির্দেশনা আমাকে এ পথে এনেছে—সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। মা-বাবার স্বপ্নের প্রথম ধাপে পৌঁছাতে পেরে আমি আনন্দিত।
নতুন পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছি। প্রথম দিন থেকে আমার প্রত্যাশা থাকবে দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করা। চিকিৎসা পেশাকে আমি মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখি। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে ভালোবাসা ও দোয়া পাওয়া যায়, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। সে বিশ্বাস নিয়েই সামনের দিতে যেতে চাই।