ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) সাভার বিরুলিয়া ‘ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি’ ক্যাম্পাসে টেকসই জ্বালানি ব্যবহার, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কার্বন-নিরপেক্ষ ক্যাম্পাস গঠনের লক্ষ্যে একটি আধুনিক স্মার্ট বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৮ মে) বায়োগ্যাস বার্নারে আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্নি প্রজ্বালনের মাধ্যমে এই প্ল্যান্টের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
বায়োগ্যাস বার্নার প্রজ্বালনের মাধ্যমে প্ল্যান্টটি উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কৃষিবিজ্ঞানী, প্রকল্পের আহ্বায়ক এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. এম এ রহিম, এমবেডেড সিস্টেম রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ড. ফিজার আহমেদ এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গবেষক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা। তাঁরা প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট গবেষক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. এম এ রহিম বলেন, ‘এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়; বরং একটি সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যতের প্রতীক। ডিআইইউর এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি স্বনির্ভরতা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
স্মার্ট বায়োগ্যাস প্ল্যান্টটি এমবেডেড সিস্টেম রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ড. ফিজার আহমেদের নেতৃত্বে এবং প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের সহযোগিতায় নকশা ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দৈনিক ২০ থেকে ৩০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন এই প্ল্যান্ট জৈব বর্জ্যকে পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর করবে। এর ফলে ক্যাম্পাসে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
ড. ফিজার আহমেদ বলেন, ‘এই প্ল্যান্ট শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য একটি জীবন্ত গবেষণাগার হিসেবে কাজ করবে। এতে এমবেডেড সেন্সর এবং স্বয়ংক্রিয় মনিটরিং সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে, যা বায়োগ্যাস উৎপাদনপ্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, স্মার্ট বায়োগ্যাস প্ল্যান্টটি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বৃহত্তর সবুজ উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভবিষ্যতে ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটি ক্যাম্পাসে সমন্বিত স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কার্বন-নিরপেক্ষ ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এই উদ্যোগ দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য টেকসই জ্বালানি ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবনের একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।