উদ্ভাবন, কৌশল আর সাহসী চিন্তার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা বসেছিল ঢাকার পাঁচ তারকা রেনেসাঁ হোটেলে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এমআইবিসি ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসায়িক কেস প্রতিযোগিতা ‘স্মার্ট টেকনোলজিস প্রেজেন্টস ইনোভেড ২০২৬ ’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে যেন পরিণত হয়েছিল তরুণদের মেধা ও মননের এক উৎসবে।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৮০৩টি দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিটি দলে ছিলেন দুই থেকে চারজন সদস্য। কঠিন কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র ছয়টি দল জায়গা করে নেয় চূড়ান্ত পর্বে। সেখানে তারা তুলে ধরে নিজেদের সেরা ভাবনা, বিশ্লেষণ ও সমাধান। দর্শক থেকে বিচারক—সবার কাছেই তরুণদের এই মেধার প্রকাশ ছিল প্রশংসনীয়।
শিরোপা গেল বিইউপির ঘরে
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর চ্যাম্পিয়নের মুকুট ওঠে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ‘টিম ডিফল্টার্স’-এর মাথায়। তবে গর্বের অংশীদার হয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিও। প্রথম ও দ্বিতীয় রানারআপ দুটি পুরস্কারই যায় এনএসইউর ঘরে। প্রথম রানারআপ হয় ‘টিম আর্কটিক উলভস’ এবং দ্বিতীয় রানারআপ ‘টিম এসপ্রেসো’।
তরুণদের মেধার স্বীকৃতি
প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে ছিলেন দেশের তিনজন খ্যাতিমান শিল্পবিশেষজ্ঞ। তারা হলেন কাজী কনসালট্যান্টসের অধ্যাপক এস এম আরিফুজ্জামান, ইয়ামাহা মোটরসাইকেলস বাংলাদেশের কৌশলবিদ মিরাজুল আলম এবং মারিকো বাংলাদেশের শাহ মো. জুনায়েদ। তাঁদের অভিজ্ঞ মূল্যায়ন ও কঠোর বিচারেই নির্ধারিত হয় সেরাদের নাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ ছাড়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য বেনজীর আহমেদ, উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী, উপ-উপাচার্য ড. নাসার ইউ আহমেদ, ট্রেজারার ড. আব্দুর রব খান এবং বিজনেস স্কুলের ডিন ড. ওয়ারেসুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
তাঁদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।
পর্দার আড়ালের গল্প
এই আয়োজনের সফলতার পেছনে ছিল এনএসইউ এমআইবিসি ক্লাবের নিরলস পরিশ্রম। ক্লাবের ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজর আফ্রিদা মাশনুন এবং এক্সিকিউটিভ বডির সদস্যদের নেতৃত্ব ও পরিকল্পনায় আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট তানভীর আনজুম রাকিন, সাধারণ সম্পাদক ইসা বিন মাহমুদ মাহি, ট্রেজারার সৃজন বণিক, ভাইস প্রেসিডেন্ট লামিয়া বিনতে ইসলাম এবং জয়েন্ট সেক্রেটারিরা—এস এম রাফসান মাশরুর, সৈয়দা সানিহা জারিন ও সৈয়দ ইউসুফ তেহামি—নিজেদের দক্ষতা, শ্রম ও নিষ্ঠা দিয়ে আয়োজনটিকে স্মরণীয় করে তোলেন।
তাঁদের এই নীরব কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অবদানই ‘ইনোভেড ২০২৬ ’-কে পরিণত করেছে একটি সফল ও অনন্য অধ্যায়ে। ক্লাবের ইতিহাসেও এটি হয়ে থাকবে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।