জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদসহ সব নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন হবে ২০ জানুয়ারি, আর জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। তিন সপ্তাহ আগে নিরাপত্তার অজুহাতে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এটি একটি অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না।’
আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাক্ষাৎ শেষে এমনটি জানান সাদিক কায়েম। একই সঙ্গে হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসি অবস্থান পরিবর্তন করবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, গতকাল সোমবার ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্য সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল সংস্থাটি।
ইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে, তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সঠিক সময়ে যাতে নির্বাচন হয়, সেটার জন্য তাঁরা ভিসিকে বলেছেন এবং প্রার্থীদের বলেছেন, তাঁরা আবেদন করলে সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সঠিক সময়ে যেন নির্বাচন হয় এবং নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধি যেন মনোনীত হয় সে ব্যাপারে তারা কাজ করবে।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘কমিশনের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এর আগে গতকাল যখন সকল সংগঠনের নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিতের নির্দেশনা দিয়েছে ইসি, তখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি। আজ এখানে এসেছি। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন হবে ২০ জানুয়ারি, আর জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। তিন সপ্তাহ আগে নিরাপত্তার অজুহাতে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এটি একটি অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না। এবারের জাতীয় নির্বাচনে প্রায় চার কোটি তরুণ অংশ নেবেন। তাই এমন কোনো কাজ করবেন না, যাতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি তরুণদের আস্থাহীনতা তৈরি হয়।’
জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ১২ জানুয়ারি সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন স্থগিতের ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচন পিছিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় দুটির প্রশাসন। শাহজালালের ভোট ২০ ও বেরোবির ভোট ২১ জানুয়ারি হওয়ার কথা ছিল।
জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, ‘গণভোটে “না” ভোটের ক্যাম্পেইন যারা করছে তারা ফ্যাসিস্ট। যারা না ভোটের ক্যাম্পেইন করছে, তারা বাংলাদেশকে পেছনে নিয়ে যেতে চায়। যারা না ভোটের ক্যাম্পেইন করছে জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে। আমরা গণভোটের পক্ষে।’
সাদিক কায়েম আরও বলেন, ‘তারা শাপলা চত্বরের মতো ম্যাসাকার করতে চায়। তারা আলেম ওলামাদের হত্যা করতে চায়। তারা পিলখানার মতো ট্র্যাজেডি করতে চায়। তারা আয়নাঘর তৈরির মাধ্যমে দেশের মানুষকে গুম খুন করতে চায়। গণভোটে অবশ্যই “হ্যাঁ”তে সিল মারতে হবে। হ্যাঁ বিজয়ী করতে হবে।’