হোম > শিক্ষা

নিজেকে বদলানোর জাদুর কাঠি

সাব্বির হোসেন

প্রতীকী ছবি

নতুন বছরের শুরুতে অনেকে জিম মেম্বারশিপ নিই, কঠিন ডায়েট চার্ট বানাই; কিংবা নতুন কোনো কঠিন দক্ষতা শেখার প্রতিজ্ঞা করি। আমাদের ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়েছে, উন্নতি করতে হলে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, নিজেকে বদলানো বা উন্নত করার পথটা কঠিন, আর সেখানে ত্যাগের মাধ্যমেই কেবল সাফল্য আসে। প্রচলিত প্রবাদই আছে, ‘কষ্ট না করলে কেষ্ট মেলে না’। কিন্তু বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানবিষয়ক লেখক ডেভিড রবসন বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁর মতে, আত্মোন্নয়নের এই সনাতন ধারণাটি কেবল ভুলই নয়; বরং ক্ষতিকরও। নিজেকে বদলানোর আসল জাদুর কাঠি ‘কঠোর পরিশ্রম’ নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে ‘আনন্দ’ খুঁজে পাওয়া।

ইচ্ছাশক্তি বনাম মস্তিষ্কের গঠন

আমরা প্রায়ই ভবিষ্যতের বড় কোনো লাভের আশায় বর্তমানের ছোট ছোট আনন্দ বিসর্জন দিই। ভাবি, আজ কষ্ট করলে ১০ বছর পর আরাম করব। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক বিবর্তনের ধারায় এমনভাবে তৈরি হয়েছে, সে সুদূর ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমানের তাৎক্ষণিক আনন্দকে বেশি গুরুত্ব দেয়। যদি আপনার নতুন অভ্যাসটি হয় ব্যায়াম বা পড়াশোনা। এটি যদি বিরক্তিকর বা যন্ত্রণাদায়ক হয়, তবে মস্তিষ্ক অবচেতনভাবেই তা বর্জন করতে চাইবে। কেবল ‘ইচ্ছাশক্তি’ দিয়ে জোর করে কোনো নীরস কাজ বেশি দিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ব্যাটারির চার্জের মতো ইচ্ছাশক্তিও একসময় ফুরিয়ে যায়।

সফলরা কি সত্যিই খুব কঠোর?

আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা আছে, যাঁরা সফল, তাঁদের ইচ্ছাশক্তি বা ডিসিপ্লিন সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। আমরা ভাবি, তাঁরা প্রতিদিন অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজেকে জোর করে কাজ করান। গবেষণা কিন্তু অন্য কথা বলছে। যাঁরা দীর্ঘ মেয়াদে তাঁদের লক্ষ্যে সফল হয়েছেন, তাঁরা আসলে এমন কাজ বা পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন, যা তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন। তাঁরা কষ্টের চেয়ে আনন্দের ওপর বেশি জোর দেন। অর্থাৎ তাঁদের সাফল্যের চাবিকাঠি ‘কঠোরতা’ নয়; বরং ‘উপভোগ’।

কষ্টের বদলে নিজেকে দিন ‘ট্রিট’

আপনি ফিট থাকতে চান; কিন্তু জিমে গিয়ে ভারী ওজন তোলা আপনার কাছে শাস্তির মতো মনে হয়। এ ক্ষেত্রে রবসন পরামর্শ দিচ্ছেন, জোর করে জিমে যাওয়ার দরকার নেই। এর বদলে এমন কিছু বেছে নিন, যা আপনাকে আনন্দ দেয়। হতে পারে তা সাঁতার, নাচ, কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলা। যখন শরীরচর্চা আনন্দের উৎস হয়ে ওঠে, তখন আর নিজেকে জোর করতে হয় না। একইভাবে, পড়াশোনা বা অফিসের কাজে যদি একঘেয়ে লাগে, তবে পরিবেশ বদলে ফেলুন। পছন্দের কোনো কফি শপে গিয়ে এক মগ ধোঁয়া ওঠা কফির সঙ্গে কাজটি করুন। অর্থাৎ কঠিন কাজটিকে একটি ‘ট্রিট’ বা পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত করুন। একে বলা হয় ‘ট্রিট বান্ডলিং’। রবসন বলেন, যখন আমরা কোনো কাজ নিজের ভালো লাগা থেকে করি, তখন সেটাকে আর ‘কাজ’ মনে হয় না। একে বলা হয় ‘ইনট্রিনসিক মোটিভেশন’।

ব্যর্থতা মানেই অযোগ্যতা নয়

কোনো নতুন রুটিন বা অভ্যাসে ব্যর্থ হলে আমরা প্রথমে নিজেকে দোষারোপ করি। ভাবি, ‘আমার দ্বারা হবে না’ বা ‘আমার কোনো ডিসিপ্লিন নেই।’ ডেভিড রবসন মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সমস্যাটা আপনার ডিসিপ্লিনে নয়, সমস্যাটা আপনার বেছে নেওয়া ‘পদ্ধতিতে’। পদ্ধতিটি এতটাই নীরস বা যন্ত্রণাদায়ক ছিল যে আপনার মস্তিষ্ক তা গ্রহণ করতে চায়নি। তাই নিজেকে দোষ না দিয়ে পদ্ধতি পরিবর্তন করুন। এমন উপায় খুঁজুন, যাতে প্রক্রিয়াটি মজাদার হয়।

আত্মোন্নয়ন হোক উদ্‌যাপন, শাস্তি নয়

নিজেকে উন্নত করার যাত্রাটি কোনো জেলখানার মতো যাতে সাজা না হয়। এটি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার আনন্দময় প্রক্রিয়া। আপনার লক্ষ্য অর্জনের পথে ছোট ছোট আনন্দ যোগ করুন।

তাই পরের বার যখন নিজেকে বদলানোর পরিকল্পনা করবেন, নিজেকে প্রশ্ন করুন ‘এ কাজটা আমি কীভাবে আরও উপভোগ্য করে তুলতে পারি?’ মনে রাখবেন, আনন্দই হলো সেই জ্বালানি, যা আপনাকে আপনার গন্তব্যে পৌঁছে দেবে ক্লান্তিহীনভাবে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ইন্দোনেশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি

জাতীয় নির্বাচনের আগে ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিত ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না: ডাকসু ভিপি

জকসু প্রতিনিধিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ হবে পরীক্ষায়

‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাফ বাসে শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ

জাপানের এনইএফ শিক্ষাবৃত্তি পেলেন বাকৃবির ১২ শিক্ষার্থী

সম্পূর্ণ অর্থায়িত তুর্কিয়ে বুরসলারি বৃত্তি

জানুয়ারিতেই বিশেষ বৃত্তি পাচ্ছেন জবি শিক্ষার্থীরা

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: লিখিত পরীক্ষার ফল চলতি মাসেই

জবিতে ‘ডি’ ইউনিটের ফল প্রকাশ ‎