প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি (লার্নিং ডেফিসিট) কমাতে পাঠ্যক্রম পুনর্বিন্যাস, নিয়মিত মাঠপর্যায়ের তদারকিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ সোমবার সকালে আগারগাঁও তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শহর ও গ্রামে শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও শহরেও লার্নিং ডেফিসিট রয়েছে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন করা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের তথ্যের পাশাপাশি সরেজমিন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাস্তব চিত্র জানা হচ্ছে।
শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে একটি বিস্তৃত নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এতে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো, দায়িত্ব, মূল্যায়ন পদ্ধতি, প্রশিক্ষণ, ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন (সিপিডি) এবং উপজেলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম নতুনভাবে সাজানো হবে। কোন শিক্ষক কি ধরনের প্রশিক্ষণ কখন পাবেন, তাও নির্ধারণ করা হবে।
বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় একটি শ্রেণিতে পাঠদান করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করেছে। তবে কয়েকজন শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তাদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেও ঠিকমতো পড়তে ও লিখতে পারে না—এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা সমাধানে ফাউন্ডেশনাল লার্নিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাঠ্যক্রমকে আরও সহজ, ধাপভিত্তিক ও দক্ষতাকেন্দ্রিক করে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক তদারকি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।