দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের শিখন ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এনএসএ-২০২২ প্রতিবেদনে প্রাথমিকের প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী শ্রেণি-উপযোগী দক্ষতায় পিছিয়ে থাকার তথ্য উঠে এলেও তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে পরিস্থিতি আরও খারাপ। তাঁর ভাষায়, ‘আমার পার্সোনাল ফাইন্ডিং–আসলে এর থেকেও বেশি শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ছে। আমাদের অবস্থা ভালো না।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত ‘রেমিডিয়াল শিক্ষা: কর্ম-অভিজ্ঞতা ও আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরের ‘সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ’ শিক্ষার্থী শ্রেণি অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে। বাস্তব পরিস্থিতি জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়নের (এনএসএ) প্রতিবেদনের চেয়েও উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি তিনি ছয়টি জেলার অন্তত ২৫টি স্কুল পরিদর্শন করেছেন। সেখানে গিয়ে দেখেছেন, অনেক শিক্ষার্থী মৌলিক অক্ষর চিনতেও হিমশিম খাচ্ছে। তাঁর মতে, বিদ্যালয়ে রোল নম্বরের প্রথম দিকের কয়েকজন শিক্ষার্থী কিছুটা ভালো করলেও পরের দিকের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মৌলিক শিক্ষাগত দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা সাধারণত জেলার সবচেয়ে ভালো স্কুলগুলোই পরিদর্শনের জন্য নির্বাচন করেন উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সেই বেষ্ট স্কুলগুলোতেও ৩০ শতাংশের বেশি প্রপার লার্নিং অ্যাচিভমেন্ট দেখা যায় না। বাস্তব চিত্র আরও খারাপ হতে পারে।’
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে এমন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা ক্লাস থ্রি, ফোর বা ফাইভে উঠলেও সংশ্লিষ্ট শ্রেণির উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। এসব শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে সরকার বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব শিক্ষার্থী ক্লাসে তাল মেলাতে পারছে না বা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ সহায়ক কার্যক্রম চালু করা হবে। এ উদ্যোগের আওতায় লার্নিং সার্কেল, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের চার থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের মৌলিক শেখার ভিত্তি শক্তিশালী করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
শিক্ষা খাতকে জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।