ইউরেশীয় দেশ তুরস্কে বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুযোগ নিয়ে এল দেশটির অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ বিলকেন্ট ইউনিভার্সিটি। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ঘোষিত এই স্কলারশিপের আওতায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থীরা স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদনের সুযোগ পাবেন।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অবস্থিত বিলকেন্ট ইউনিভার্সিটি দেশটির প্রথম বেসরকারি এবং অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি তার বিশ্বমানের একাডেমিক পরিবেশ এবং গবেষণার উৎকর্ষের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কিউএস এবং টাইমস হায়ার এডুকেশন র্যাঙ্কিং অনুযায়ী এটি ধারাবাহিকভাবে তুরস্কের সেরা এবং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
সুযোগ-সুবিধা
বিলকেন্ট ইউনিভার্সিটি তাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়িত এবং আংশিক উভয় ধরনের বৃত্তির ব্যবস্থা রেখেছে। এই স্কলারশিপের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের টিউশন ফি দিতে হবে না। জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসিক স্টাইপেন্ড এবং আবাসন সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় দেওয়া হয় ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমা এবং পড়াশোনার সুবিধার্থে একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার। দৈনন্দিন খাবারের খরচ মেটাতে দেওয়া হয় মিল কার্ড।
আবেদনের যোগ্যতা
বৃত্তিটি মূলত বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত। এমনকি তুরস্কের নাগরিকেরাও এতে আবেদনের সুযোগ পাবেন। উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে স্নাতক পর্যায়ে ৪ স্কেলে ন্যূনতম ২.৮০ সিজিপিএ ধারী হতে হবে। একাডেমিক যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জিআরই কোয়ান্টিটেটিভ সেকশনে ন্যূনতম ১৫৩ স্কোর থাকতে হবে। যেহেতু এখানকার পাঠদানের পদ্ধতি ইংরেজি ভাষায় পরিচালিত হবে, তাই ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএসে গড়ে ৬.৫ অথবা টোয়েফল পরীক্ষায় অন্তত ৮৭ স্কোর থাকতে হবে।
প্রয়োজনীয় তথ্য
প্রার্থীদের সব একাডেমিক এবং প্রফেশনাল অর্জনের বিস্তারিত বিবরণসহ একটি হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে পূর্ববর্তী সব পরীক্ষার অফিশিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট এবং মূল সনদপত্র জমা দিতে হবে। প্রার্থীর গবেষণার আগ্রহ এবং কেন তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, তা ব্যাখ্যা করে একটি স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) লিখতে হবে। আবেদনকারীর মেধা ও চারিত্রিক গুণাবলি মূল্যায়ন করতে পারেন, এমন দুজন শিক্ষক বা প্রফেশনাল সুপারভাইজারের কাছ থেকে দুটি সুপারিশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
অধ্যয়নের ক্ষেত্রগুলো
বিলকেন্ট ইউনিভার্সিটি তার সমৃদ্ধ একাডেমিক কারিকুলামের জন্যও পরিচিত। যেখানে শিক্ষার্থীরা মূলত ১১টি প্রধান অনুষদ ও স্কুলের অধীনে আবেদনের সুযোগ পাবেন। প্রকৌশল বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি এখানে অ্যাপ্লায়েড টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, ইকোনমিকস, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস এবং বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদে আধুনিক সব বিষয় পড়ার সুযোগ রয়েছে। সৃজনশীল শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আর্ট, ডিজাইন অ্যান্ড আর্কিটেকচার এবং মিউজিক অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস।
এ ছাড়া তাত্ত্বিক জ্ঞান ও গবেষণার জন্য হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড লেটারস এবং সায়েন্স অনুষদটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। উচ্চতর গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিতে তিনটি বিশেষায়িত গ্র্যাজুয়েট স্কুল রয়েছে। এগুলো হলো স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস, স্কুল অব এডুকেশন এবং স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স। এ স্কুলগুলোর অধীনেই মূলত মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের অধিকাংশ প্রোগ্রাম পরিচালিত হয়।
আবেদনের পদ্ধতি
স্নাতকের জন্য আগ্রহী প্রার্থীরা এই লিংকে ও স্নাতকোত্তরের প্রার্থীরা এই লিংকে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের শেষ সময়: ১২ জুলাই ২০২৬।