কয়েক মাস পরেই ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পাবে। এই পরীক্ষায় নিজেকে এগিয়ে রাখতে প্রস্তুতি নিতে হবে আগেভাগেই। বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির বিশাল সিলেবাস আর সময়স্বল্পতা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন চাকরিজীবী ও নতুন পরীক্ষার্থীরা। কর্মব্যস্ত শিডিউলের মধ্যেও কীভাবে পরিকল্পিতভাবে পড়াশোনা করে সফল হওয়া যায়, তারই পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন দিয়েছেন ৪৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত অমিত খান। তাঁর পরামর্শ শুনেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার।
বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন বাংলাদেশের লাখো তরুণের। কিন্তু এই দীর্ঘ যাত্রার প্রথম এবং সবচেয়ে বড় বাধা হলো প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। বিশেষ করে যাঁরা বেসরকারি চাকরিতে নিয়োজিত, ইন্টার্নশিপ করছেন বা অনার্সের শেষ বর্ষে আছেন, তাঁদের জন্য পড়াশোনার সময় বের করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। সময়ের স্বল্পতা থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে সাফল্য সম্ভব।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো করার মূলমন্ত্র হলো সঠিক রিসোর্স বা বই নির্বাচন। বাজারে অনেক বইয়ের ভিড়ে কার্যকর কিছু বইয়ের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
বাংলা (৩৫ নম্বর)
বাংলার জন্য ‘জয়যাত্রা’ বা ‘অগ্রদূত’ ভালো বিকল্প। তবে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রেক্ষাপটে ‘জয়যাত্রা’ বইটি অধিক তথ্যবহুল ও বিস্তৃত। সাহিত্যের গভীরে গিয়ে প্রশ্ন আসার প্রবণতা বাড়ছে, তাই যত বেশি তথ্য মাথায় রাখা যাবে, ভালো করার সম্ভাবনা তত বাড়বে। এ ছাড়া ব্যাকরণের মৌলিক ভিত্তির জন্য নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই অবশ্যই পড়তে হবে।
ইংরেজি (৩৫ নম্বর)
গ্রামারের জন্য মাস্টার্স বইটি অত্যন্ত কার্যকর। বইয়ের কোনো টপিক বুঝতে সমস্যা হলে ইউটিউব টিউটরিয়ালের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
সাহিত্যের জন্য আ গেটওয়ে টু ইংলিশ লিটারেচার বা অগ্রদূত পড়া যেতে পারে। বর্তমানে উপন্যাসের উক্তি বা মূল বিষয়বস্তু থেকে প্রশ্ন আসে। তাই শুধু লেখকের নাম না পড়ে বিস্তারিত পড়তে হবে।
সাধারণ জ্ঞান (৭৫ নম্বর)
এই বিশাল অংশের (বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক, ভূগোল ও নৈতিকতা) জন্য বেসিক ভিউ একটি চমৎকার বই। যাঁরা আগে এমপিথ্রি পড়েছেন, তাঁরা সেটিই রিভাইস করতে পারেন। তবে নতুন তথ্যের জন্য বেসিক ভিউ দেখা ভালো। মনে রাখবেন, প্রিলিতে এই ৭৫ নম্বরই আপনার ক্যাডার হওয়ার ভিত্তি গড়ে দিতে পারে।
গণিত ও মানসিক দক্ষতা (৩০ নম্বর)
গণিতের জন্য ককটেল খাইরুল’স ম্যাথ বা আলাল’স যেকোনো একটি বই বেছে নিন। এখানে বইয়ের চেয়ে বড় বিষয় হলো নিয়মিত অনুশীলন। প্রতিদিন অন্তত একটি টপিক শেষ করার লক্ষ্য থাকতে হবে। মানসিক দক্ষতার জন্য বিগত বছরের প্রশ্ন এবং চিত্র, ধারা, ভারসাম্য ও ক্যালেন্ডার-বিষয়ক সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পড়লেই যথেষ্ট।
বিজ্ঞান ও আইসিটি (২৫ নম্বর)
বিজ্ঞান ও আইসিটির জন্য নির্দিষ্ট কোনো একটি বই শতভাগ কমন দেয় না। সায়েন্স ভিউ, এমপিথ্রি বা আইসিটি ভিউ পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজনে নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইটির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
চার মাসের মাস্টারপ্ল্যান
প্রথম ৪ মাসের মধ্যে পুরো সিলেবাস অন্তত একবার শেষ করার টার্গেট নিতে হবে।
প্রথমবার পড়ার সময় অনেক কিছু ভুলে যাবেন, এটা স্বাভাবিক। ঘাবড়াবেন না। রিভিশনের সময় সব আবার মনে পড়বে।
বিসিএস পরীক্ষায় আপনি কতটুকু জানেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনি পরীক্ষার হলে কতটুকু মনে রাখতে পারছেন।
হতাশা জয় ও মানসিক দৃঢ়তা
প্রস্তুতির দীর্ঘ এই পথচলায় অনেক সময় মনে হতে পারে, ‘আমাকে দিয়ে হবে না’ বা ‘অন্যরা আমার চেয়ে বেশি পড়ছে’। এই চিন্তাগুলো আপনার কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেবে। মনে রাখবেন, যাঁরা কষ্ট করে সময় বের করে পড়ছেন, তাঁদের ধৈর্য ও একাগ্রতা সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি থাকে।
বিসিএস একটি ম্যারাথন দৌড়। এখানে যাঁরা শেষ পর্যন্ত লেগে থাকেন, জয় তাঁদেরই হয়। পাঁচ থেকে ছয় মাস কঠোর পরিশ্রম আপনার জীবনের পরবর্তী ৩০ থেকে ৩৫ বছরের গতিপথ বদলে দিতে পারে। তাই নতুন এডিশনের বইগুলো সংগ্রহ করুন এবং প্রস্তুতি শুরু করুন।