হোম > শিক্ষা

বিষয় যখন রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সম্ভাবনার বিস্তৃত দুয়ার

পল্লব শাহরিয়ার

উচ্চমাধ্যমিকের পর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সামনে খুলে যায় এক নতুন দিগন্ত। কোন বিষয়ে পড়বেন, কোথায় পড়বেন—এই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় জীবনের গতিপথ। যাঁরা সমাজ, রাষ্ট্র, নীতিনির্ধারণ, কূটনীতি এবং ক্ষমতার রসায়ন বুঝতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য একটি চমৎকার বিষয়ের নাম ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান’ বা ‘পলিটিক্যাল সায়েন্স’। শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, আধুনিক বিশ্বে এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও প্রায়োগিক বিষয়। একজন উচ্চমাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীর জন্য এই বিষয়ের খুঁটিনাটি নিচে তুলে ধরা হলো।

কোথায় পড়বেন

দেশের প্রায় সব বড় এবং নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি পড়ার সুযোগ রয়েছে:

⬤ শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ নতুন ও পুরানো প্রায় সব জেনারেল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগ রয়েছে।

⬤ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: দেশের স্বনামধন্য সরকারি কলেজগুলোতে (যেমন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, বিএম কলেজ বা বিএল কলেজ ইত্যাদি) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

⬤ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: বর্তমানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি বা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মতো শীর্ষ সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরাসরি রাষ্ট্রবিজ্ঞান না থাকলেও ‘পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ বা ‘পাবলিক পলিসি’ নামে সমমানের বিভাগ রয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাধারণত ‘মানবিক’ বা ‘খ’ ইউনিটের অধীনে থাকে। তবে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিভাগ পরিবর্তনের মাধ্যমে এতে ভর্তি হতে পারেন। প্রস্তুতির জন্য মূল জোর দিতে হবে ৩টি বিষয়ে:

১. বাংলা ও ইংরেজি: ব্যাকরণ, সাহিত্য এবং মৌলিক ভাষাগত দক্ষতায় ভালো দখল থাকতে হবে। ইংরেজি পাসের নম্বর এখানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২. সাধারণ জ্ঞান: রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ভর্তির প্রধান চাবিকাঠি হলো সাধারণ জ্ঞান। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, সমসাময়িক রাজনীতি, সংবিধান, ভূ-রাজনীতি এবং ইতিহাসের ওপর গভীর ধারণা থাকতে হবে।

৩. টেক্সটবুক ও রিভিশন: এইচএসসির ‘পৌরনীতি ও সুশাসন’ বই দুটি খুব ভালো করে রিডিং পড়তে হবে। এখান থেকে অনেক মৌলিক প্রশ্ন আসে।

বিদেশে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সম্ভাবনা

অনেকের ধারণা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান শুধু দেশের ভেতরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এটি সম্পূর্ণ ভুল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বিষয়ের চাহিদা আকাশচুম্বী।

  • উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপ: ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল-ফ্রি স্কলারশিপের (যেমন ফুলব্রাইট, শেভেনিং, ইরাসমাস মুন্ডুস) প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
  • গ্লোবাল জব মার্কেট: জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় ‘পলিসি অ্যানালিস্ট’ বা ‘রিসার্চার’ হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
  • কূটনীতি বা ফরেন সার্ভিস: বিশ্বের যেকোনো দেশের থিংকট্যাংক বা থার্ড-পার্টি থিংকিং গ্রুপগুলোতে ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষণের জন্য এই বিষয়ের ডিগ্রিধারীদের মোটা অঙ্কের বেতনে নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান মানে শুধু সাল বা নেতার নাম মুখস্থ করা নয়। এটি আপনাকে যেকোনো ঘটনার পেছনে ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে’ ঘটল; তা বিশ্লেষণ করতে শেখাবে। আপনার মধ্যে একটি যৌক্তিক ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে।

ইতালিতে পিএইচডির স্বপ্ন যাঁদের

সোমবারের পরীক্ষা স্থগিত করল ঢাবি

চট্টগ্রাম বিভাগ ছাড়া অন্যান্য এলাকায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলবে

‎আবহাওয়া দেখে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত‎: শিক্ষামন্ত্রী

গাছ ভেঙে পড়ে দুমড়েমুচড়ে গেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস

‎বৈরী আবহাওয়া: বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক ও প্রাক্‌-নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত

‎প্রাথমিকে বৃত্তি পেল ৭৯ হাজার শিক্ষার্থী, এগিয়ে মেয়েরা

ইউআইইউ রেসকিউ রোভার টিম: প্রথমবার অংশ নিয়েই বিশ্বমঞ্চে সাফল্য

এশিয়ার সেরা কালিয়াকৈরের খুদে তাজ

সিমাগো র‌্যাঙ্কিং: এনার্জিতে দ্বিতীয়, গণিতে তৃতীয় পাবিপ্রবি