সাক্ষাৎকার

সাক্ষাৎকার: দক্ষিণ কোরিয়ায় গবেষকদের জন্য রয়েছে দারুণ সুযোগ

দেশের তরুণেরা এখন কেবল স্বপ্ন দেখেই থেমে নেই, সেই স্বপ্নকে গবেষণায় রূপ দিচ্ছে। এর অনন্য উদাহরণ আরমান সৈকত। ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করে তিনি এখন দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ান্টাম ইনফরমেশন ফিজিকসে পিএইচডি করছেন। স্নাতক পর্যায়েই তাঁর উদ্ভাবিত কোয়ান্টাম ও ক্ল্যাসিক্যাল ক্রিপ্টোগ্রাফির সমন্বয়ে একটি বহুস্তরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম arXiv-এ প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানী.অর্গ তাঁকে ‘জেন-জি নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে তিনি সিউলের কোয়ান্টাম ল্যাবে গবেষণারত। এই তরুণের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ড. মশিউর রহমান

বাংলাদেশে স্নাতকেই গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন, অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল? এটি কি আপনাকে কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষার দিকে অনুপ্রাণিত করেছে?

সত্যি বলতে, স্নাতক পর্যায়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করা আমার কাছে খুব কঠিন মনে হয়নি। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. মেহেদী মাহদি স্যারের ‘কোয়ান্টাম কম্পিউটিং’ কোর্সটি নিয়েছিলাম শুধু নতুন কিছু শেখার আগ্রহ থেকে। তখন গবেষণাপত্র প্রকাশের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। পরে স্যার এবং গবেষণা সহকারীদের সহযোগিতায় আমার প্রথম কাজটি সম্পন্ন হয়। সেই কাজের অভিজ্ঞতা আমাকে নতুন গবেষণায় উৎসাহিত করে এবং কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষার পথেও সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে।

কোরিয়ায় বৃত্তি পাওয়ার যাত্রাটা কেমন ছিল?

আবেদন থেকে চূড়ান্ত নির্বাচন, কোন বিষয়গুলো আপনার পক্ষে কাজ করেছে?

আমার একাডেমিক ফল খুব ভালো ছিল না। তাই প্রফেসর ফান্ডিংয়ে যাওয়ার জন্য শুরুতে প্রফেসরদের সরাসরি ই-মেইল করা শুরু করি। কোনো দেশ বা বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার না দিয়ে গুগল স্কলার থেকে নিজের আগ্রহের সঙ্গে মিলিয়ে প্রফেসর বেছে নেই। বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়েছি এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। এর প্রধান কারণ, আমি আমার কাজ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখতাম। শেষ পর্যন্ত বর্তমান প্রফেসরকে বেছে নিই। তাঁর গবেষণার বিষয় এবং যোগাযোগের ধরন আমার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানানসই লেগেছে।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং কোরিয়ার গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামের মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য অনুভব করলেন?

সবচেয়ে বড় পার্থক্য দেখেছি সিলেবাস ও কনটেন্টে। বাংলাদেশে অনেক সময় একই বিষয় বছর ধরে পড়ানো হয়, কিন্তু এখানে সাম্প্রতিক জার্নাল আর্টিকেল থেকে সিলেবাস তৈরি করা হয়। পাশাপাশি ল্যাব ফান্ডিংও অত্যন্ত শক্তিশালী—প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ সহজেই পাওয়া যায়। পড়াশোনার মান এবং গবেষণার সুযোগ—এই দুই ক্ষেত্রে পার্থক্য স্পষ্ট।

কোরিয়ার গবেষণার পরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা কেমন? প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার মিল পেয়েছেন?

আগে শুনতাম, কোরিয়ান ল্যাব সংস্কৃতি বেশ চাপপূর্ণ। তবে ব্যক্তিগতভাবে এখন পর্যন্ত তেমন কিছু অনুভব করিনি। বরং আমার অভিজ্ঞতা প্রত্যাশার চেয়েও ভালো। আমাদের ল্যাবের KIST, UCSB, MIT এবং ETH Zurich-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা রয়েছে। সম্প্রতি ETH Zurich-এর এক গবেষকের সঙ্গে আলোচনায় জানতে পারি, আমাদের ল্যাবের সেটআপ তাদের থেকেও উন্নত, যা কোরিয়ায় আসার আগে আমি কল্পনাও করিনি।

কোরিয়ান ভাষা শেখার বিষয়টি কেমন চলছে? দৈনন্দিন জীবন বা গবেষণায় ভাষা কতটা বাধা তৈরি করে?

এখনো কোরিয়ান ভাষা শেখা শুরু করিনি। একজন পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে এটি বড় কোনো বাধা মনে হয়নি। এখানে বেশির ভাগ মানুষই শিক্ষিত, তাই ট্রান্সলেটর ব্যবহার করে সহজেই যোগাযোগ করা যায়। তবে ভাষা শেখা অবশ্যই দরকার। সময় করে পরে অবশ্যই শিখব।

কোরিয়ায় এসে বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনায় নতুন কী শিখলেন, যা দেশে থাকলে হয়তো শেখা হতো না?

কোরিয়ানদের গণিতভিত্তিক চিন্তা খুব শক্তিশালী। আমরা বাংলাদেশে সাধারণত আগে ভৌত অর্থ বুঝতে চাই, আর তারা শুরু করে ডেরিভেশন দিয়ে, তারপর ভৌত ব্যাখ্যায় যায়। তারা প্রতিটি বিষয়ের পরীক্ষামূলক প্রমাণ দেখতে চায়। আমি যখন বলি, আমাদের দেশে পরীক্ষামূলক সেটআপ নেই, তখন তারা বিস্মিত হয়, তাদের কাছে এটি অস্বাভাবিক।

কোরিয়ার জীবনযাত্রা ও মানুষের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কতটা সময় লেগেছে? কখনো কী মনে হয়েছে, ‘ফিরে যাই’?

মানুষের ব্যবহার আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে—তারা খুব সহায়ক। একজন ল্যাবমেট বাসা খুঁজে পেতে সাহায্য করেছে, মেট্রোতে একজন নিজের ট্রেন ছেড়ে আমাকে পথ দেখিয়েছে। আবহাওয়াও চমৎকার, ধুলাবালু নেই। আকাশ পরিষ্কার, বসন্তে শহর ভরে থাকে ফুলের সুবাসে। শুধু প্রথম দিন একটু খারাপ লেগেছিল, কিন্তু পরদিন থেকে শহর ঘুরে দেখতে বের হই। এখন সবকিছুই আপন মনে হয়।

কোরিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বা প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে?

এখানে বাঙালি বা দক্ষিণ এশীয় মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নেই। বিদেশিদের মধ্যে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার শিক্ষার্থীরাই বেশি—কাজাখস্তান, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেকে এসেছে। দক্ষিণ এশিয়ার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম।

আপনার বর্তমান গবেষণার বিষয় কী? এর কোনো বাস্তব প্রয়োগ বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ায় দেখা যেতে পারে?

বর্তমানে ডায়মন্ড এনভি সেন্টার এবং এনএমআর নিয়ে কাজ করছি। গবেষণার বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে কোয়ান্টাম কমিউনিকেশনের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, বিশেষ করে গেটের ফিডেলিটি রেট উন্নত করার বিষয়ে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হলে তা শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলতে পারে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা বৃত্তি পেতে আগ্রহী তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

বৃত্তির জন্য নয়, আগ্রহ বা কৌতূহল থেকে গবেষণায় আসা উচিত। তাতে করে সুযোগ নিজে থেকে তৈরি

হয়। আমাদের দেশে অনেকে শুধু স্কলারশিপ পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে চায়, যা দীর্ঘ মেয়াদে গবেষণা সংস্কৃতির জন্য ভালো নয়। প্রকৃত আগ্রহ থেকে গবেষণা শুরু হলে—গবেষণাপত্রও হবে, সুযোগও আসবে।

নমুনা ভাইভা: বিসিএস ভাইভায় রাকিবের অভিজ্ঞতা

উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ সংসদে পাস

জবিতে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ৩ মে

জবিতে ষষ্ঠ মেধাতালিকা প্রকাশ, ভর্তি শুরু আজ থেকে

রাজধানীর কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইন ও ৩ দিন অফলাইন ক্লাস হবে: শিক্ষামন্ত্রী

‎বোর্ড পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর: শিক্ষামন্ত্রী

আইইউবিতে হাম সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার

৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা: স্বল্প সময়ের স্মার্ট প্রস্তুতি

ইংরেজি চর্চা: সাবলীল কথা বলার স্মার্ট কৌশল