‘আমার ছেলেকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, দোষীদেরও যেন সেভাবে হত্যা করা হয়। আমার ছেলে তো কোনো অপরাধ করেনি। আমার নিরস্ত্র ছেলে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেই হত্যার মাধ্যমে আমার সংসারটাই মাটি করে দেওয়া হয়েছে।’ আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়া বাবনপুর গ্রামে কবরের পাশে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন।
মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা সাধারণ পরিবার। কৃষক, মজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। আমার ছেলে লেখাপড়া করছিল, চাকরি পাওয়ার প্রায় কাছাকাছি ছিল। অনার্স পাস করেছিল, নিবন্ধনে টিকেছিল, লিখিত পরীক্ষায়ও পাস করেছিল। আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। ওই ছেলের ওপর আমার অনেক আশা-ভরসা ছিল। সে চাকরি করবে, বিয়ে করবে, বউ-সন্তান হবে। সব দেখব। কিন্তু আমার আগেই সেই ছেলে চলে গেল।’
আবু সাঈদের বড় ভাই ও মামলার বাদী রমজান আলী বলেন, ‘আগামীকাল ৯ তারিখে আবু সাঈদ হত্যায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলার রায় হবে। আমার দাবি, আবু সাঈদের হত্যার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক। আর যারা এই মামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
রমজান আলী বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম ছয় মাসের মধ্যেই বিচার কার্যক্রম শেষ হবে। বাংলাদেশের মানুষও চেয়েছিল আবু সাঈদের হত্যা মামলায় সুষ্ঠু ও সঠিক বিচার হবে। যদি ন্যায়বিচার হয়, তাহলে দেশের বিচারব্যবস্থায় মানুষের আস্থা বাড়বে।’