ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুকদের মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে চাঁদাবাজির টাকা আদায়ের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সুপার জানান, একটি চক্র বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করে সেই অর্থ ভিক্ষুকদের বিকাশ, নগদ ও রকেট অ্যাকাউন্টে আনত। পরে ওই টাকা তুলে নিত চক্রের সদস্যরা। এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মোছা. সুলতানা খাতুন ও মো. মোবারক হোসেনকে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মেট্রোপলিটনের পবা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন ও চারটি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, গত বছরের মার্চে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের এক সুইডেনপ্রবাসী তরুণীর মায়ের কাছে ফোন করে চক্রটি জানায়, তাঁর মেয়ে দেশে এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসার জন্য জরুরি টাকা প্রয়োজন। বিশ্বাস করে তিনি চক্রের দেওয়া একটি রকেট অ্যাকাউন্টে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা পাঠান। পরে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ২৯ মার্চ গোমস্তাপুর থানায় জিডি করেন, যা পরে মামলায় রূপ নেয়।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, রাজশাহীর পবা থানাকেন্দ্রিক একটি চক্র এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। মোবারক হোসেন ভিক্ষুকদের সরকারি রেশন ও ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নামে সিম ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট খুলে নিতেন। পরে সেই সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন দিয়ে স্বজন অসুস্থ বা দুর্ঘটনায় মুমূর্ষু—এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন। কখনো পুরুষ, কখনো নারী কণ্ঠে কথা বলে বিশ্বাস অর্জন করা হতো।
অনেকে যাচাই-বাছাই না করেই আতঙ্কে টাকা পাঠিয়ে দিতেন। অর্থ পাওয়ার পর ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল নষ্ট করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতো। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।