হোম > অর্থনীতি > বিশ্ববাণিজ্য

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ইঙ্গিত: কমছে তেলের দাম, চাঙা শেয়ারবাজার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তির খবর প্রকাশের পরপরই বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই খবর প্রকাশের পরপরই বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের উত্তেজনায় ঊর্ধ্বমুখী থাকা অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে এবং বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারের সূচকগুলো চাঙা হয়ে উঠেছে।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। অথচ দিনের শুরুতে এই দাম ছিল ১০৮ ডলারের বেশি। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের ৭০ ডলারের তুলনায় এই দাম এখনো অনেক বেশি।

শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, লন্ডনের বড় কোম্পানিগুলোর সূচক এফটিএসই ১০০ লেনদেনের শুরুতে দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। এ ছাড়া জার্মানির ড্যাক্স ও ফ্রান্সের সিএসি-৪০ সূচক প্রায় তিন শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক বেড়েছে এক শতাংশের নিচে। এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোতেও আজ বুধবার সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ছয় দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে বন্ধ হয়েছে, হংকংয়ের হ্যাং সেং বেড়েছে এক দশমিক ২২ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ।

এই বাজার পরিবর্তনের কারণ হিসেবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে। এই চুক্তি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করবে এবং এর ভিত্তিতে পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার পথ সুগম হবে।

অ্যাক্সিওস দুটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, চুক্তির প্রস্তাবনায় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা এবং এরপর ৩০ দিনের একটি আলোচনা পর্বের কথা বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হবে। যদিও উভয় পক্ষই এখন পর্যন্ত সংঘাত শুরুর পর থেকে চুক্তির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে, তবে বাজারের প্রতিক্রিয়া এখনো সতর্কতামূলক। কারণ, এখনো কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যার ফলে তেলের দাম কমেছিল। কিন্তু গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নৌ অভিযানের ঘোষণা দেন। এর জেরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

তবে গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, চুক্তিটি চূড়ান্ত হয় কি না, তা দেখার জন্য তিনি ‘অল্প সময়ের জন্য’ এই অভিযান বন্ধ রাখছেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির পথে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য পূরণ হওয়ায় ইরান-ইসরায়েলের প্রাথমিক আক্রমণাত্মক অভিযান শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তির পথ বেছে নিতে চাই। এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্য একটি চুক্তি।’

তবে রুবিওর বক্তব্যের বিপরীতে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এর আগে বলেছিলেন, ‘আমরা ভালোভাবেই জানি, এভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন। তবে আমাদের লড়াই সবে শুরু হয়েছে।’

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে।

টানা তৃতীয়বারের মতো তেল উৎপাদন বাড়াতে সম্মত হয়েছে ‘ওপেক-প্লাস’

বিশ্ববাজারে তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

ইরানে হামলার বিকল্প ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন, ফের বাড়ল তেলের দাম

ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ে হ্যাকারদের হানা: ২৫ লাখ ডলার চুরি, ৪ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বরখাস্ত

কেন ২২ হাজার কেজি সোনা বিক্রি করলেন পুতিন

তেলের বাজার ওঠানামা করছে ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে

১০ রুপির পানীয়, নাম পাকিস্তানি: ভারতে যেভাবে গড়ে উঠল ২৮০০ কোটির ব্র্যান্ড

ইরান যুদ্ধের ৫০ দিনে তেলের বাজারে ৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি

হরমুজ খোলার ঘোষণায় তেলের দাম কমল ১৩ শতাংশ