হোম > অর্থনীতি > বিশ্ববাণিজ্য

ওপেক ত্যাগের কথা ভাবছে ইরাক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরাকের একটি তেলক্ষেত্র। ছবি: এএফপি

তেল-গ্যাস উৎপাদক দেশগুলোর জোট ওপেক ইরাকের উৎপাদন কোটা উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়ালে দেশটি নিজেদের জন্য উন্মুক্ত থাকা সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। দেশটির তেল মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরাক বর্তমানে গভীর আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে দেশের অর্থনীতি চাপে পড়েছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওপেকে ইরাকের কোটায় বড় ধরনের বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখারও আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, পৃথক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে—ইরাকি কর্মকর্তারা একপর্যায়ে ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করেছিলেন। তবে আপাতত দেশটির পরিকল্পনা সংস্থাটির সদস্য হিসেবেই থাকা এবং উচ্চতর উৎপাদন কোটার জন্য চাপ অব্যাহত রাখা।

ইরাকের সম্ভাব্য এমন অবস্থান ওপেকের জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, চলতি বছরই সংস্থাটি থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রস্থান ঘটেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরাক ওপেকের পাঁচ প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের একটি এবং সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইরাকের রাজধানী বাগদাদে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও ওপেক তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এর আগে, এই জোট থেকে বেরিয়ে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। চলতি বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে এ ঘোষণা দেয় দেশটি। ইরাক ও আরব আমিরাতের এই অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগেই আমিরাত এ সংগঠনের সদস্য ছিল। বহু দশক ধরে ‘ওপেক’ তেলের উৎপাদন বাড়ানো-কমানোর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে দামের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে এবং ১৯৭০-এর দশকের জ্বালানি-সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, ইরাক ওপেকের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। চলতি বছরের মে মাসে ইরাকের দৈনিক গড় তেল উৎপাদন ছিল প্রায় ১৪ দশমিক ৮ থেকে ১৭ দশমিক ৫ লাখ ব্যারেল। তবে জুন মাসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এবং বন্দরে ট্যাংকারের সংখ্যা বাড়ায় শুধু দক্ষিণাঞ্চলীয় তেলক্ষেত্রগুলো থেকেই উৎপাদন বাড়িয়ে দৈনিক প্রায় ২১ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে গত মে মাসে দেশটির তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে দৈনিক মাত্র ১৪ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছিল, যা স্বাভাবিক সময়ের (প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল) তুলনায় অনেক কম। ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে তারা শুধু দক্ষিণাঞ্চলের উৎপাদনই দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। ওপেক প্লাস জোটের বেঁধে দেওয়া কোটা এবং অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ইরাকের এই উৎপাদন মাত্রা নিয়মিত পরিবর্তিত হয়।

তেলের দাম না কমিয়ে ‘গ্রাহক ঠকাচ্ছে’ এক্সন মবিল ও শেভরন, তদন্তের নির্দেশ ট্রাম্পের

শেয়ারবাজারে এসেই হুলুস্থুল: বন্ড বিক্রির ঘোষণার পরই হারাল ৬০০ বিলিয়ন ডলার

বিশ্ববাজারে আবার কমল তেলের দাম, চাঙা এশিয়ার শেয়ারবাজার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিতে কমল তেলের দাম, মার্চের পর সর্বনিম্ন

পাম্প থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি কেনায় নিষেধাজ্ঞা ভারতের, নেপথ্যে কী

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর আরও ১০–১২.৫% শুল্কারোপের পাঁয়তারা যুক্তরাষ্ট্রের

আবারও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, তেলের দাম বাড়ল আরও ১ শতাংশের বেশি

ভারত-ওমান বাণিজ্য চুক্তি যেভাবে হরমুজের বিকল্প পথ দেখাচ্ছে

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

শান্তিচুক্তির সম্ভাবনায় আরও কমল তেলের দাম, চাঙা বিশ্ববাজার