হোম > অর্থনীতি > বিশ্ববাণিজ্য

হরমুজ প্রণালিতে হামলার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তেলের দাম

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েই চলেছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রায় ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

গতকাল সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর ফিউচার প্রাইস বা চুক্তি মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলারের কাছাকাছি উঠে যায়। বিগত পাঁচ দিনে তেলের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ এবং গত এক মাসে বেড়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ। সোমবারের বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গত ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ, সেদিন তেলের দাম সর্বোচ্চ ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৯৩ ডলারে উঠেছিল।

একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েলের দাম ৭৯ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটিও প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে হামলা বেড়েছে। গত শনিবার মার্কিন বাহিনী ইরানের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়। অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা অন্য এলাকায় তিনটি ট্যাংকার ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির (সিএনএএস) অ্যাডজাঙ্ক্ট সিনিয়র ফেলো র‍্যাচেল জিয়েম্বা আল–জাজিরাকে বলেন, ‘এটি চলমান সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলার প্রতিফলন। বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে এবং এ পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই।’

হামলা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। তথ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে।

জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্যাসিলভ গ্রুপের অংশীদার আরিফ গ্যাসিলভ আল–জাজিরাকে বলেন, ‘জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধের আগের পর্যায়ে অপরিশোধিত তেলের দাম নেমে গিয়েছিল। এরপর আবার বেড়েছে, পরে কমেছে এবং এখন আবার এ সপ্তাহান্তের পাল্টাপাল্টি হামলা ও আরামকোর স্থাপনায় হামলার কারণে বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘এটি কত দিন চলতে থাকে, তার ওপর নির্ভর করে একসময় হয়তো এমন একটি মোড় আসবে, যখন যুদ্ধবিরতিও বাজারে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না, হয়তো মাত্র এক বা দুই ডলার ওঠানামা করবে।’

তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা পেট্রলপাম্পে টের পাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক পেট্রলের দাম পর্যবেক্ষণকারী আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহে প্রতি গ্যালন (৩ দশমিক ৭৮ লিটার) পেট্রলের গড় দাম ৭ সেন্ট বেড়ে সোমবার ৪ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৪ দশমিক ৮ ডলার।

দাম বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের ওপর চাপ বাড়ছে। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রতি পরিবার গড়ে জ্বালানিতে ৭৬৪ দশমিক ৫৯ ডলার খরচ করেছে। এটি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৪১৮ দশমিক ৮২ ডলার বেশি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে এটি রিপাবলিকানদের জন্য সম্ভাব্য সতর্কসংকেতও হতে পারে। সাম্প্রতিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক জরিপে অর্থনীতি পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের সমর্থন নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তাঁর অর্থনীতি পরিচালনার পদ্ধতিকে সমর্থন করেন।

দ্য ইকোনমিস্ট ও ইউগভের যৌথ এক জরিপেও একই ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে ৩৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, অর্থনীতি পরিচালনায় ডেমোক্র্যাটরা ভালো কাজ করছে। অন্যদিকে ৩২ শতাংশ বলেছেন, রিপাবলিকানরা ভালো করছে।