হোম > অর্থনীতি > বিশ্ববাণিজ্য

তেলের দাম না কমিয়ে ‘গ্রাহক ঠকাচ্ছে’ এক্সন মবিল ও শেভরন, তদন্তের নির্দেশ ট্রাম্পের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমলেও গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা বাজারে দাম না কমানোয় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ‘গ্রাহক ঠকানোর’ (প্রাইস গ্যাজিং) অভিযোগ এনে দেশটির বিচার বিভাগকে (ডিওজে) অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করতে বলেছেন তিনি।

গতকাল বুধবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়। সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই তদন্তের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই জ্বালানি তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এক্সন মবিল এবং শেভরনের নাম উল্লেখ করেন।

ভিডিওতে ট্রাম্প বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক কমে গেছে, কিন্তু পাম্পগুলোতে (খুচরা পর্যায়ে) তার কোনো প্রভাব আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’

অবশ্য এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এক্সন মবিল বা শেভরনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যায়। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর রিপাবলিকান দলের জন্য এই জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য একটি বড় রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর পর এই সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে টানা ছয় সপ্তাহ ধরে খুচরা বাজারে তেলের দাম কমছে, যা মার্কিন ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, খুচরা বাজারে দামের এই পতন অপরিশোধিত তেলের দাম কমার তুলনায় একেবারেই যৎসামান্য, এটা মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো অপরিশোধিত তেলের দাম যেভাবে কমছে, সেই অনুপাতে পাম্পে খুচরা তেলের দাম কমাচ্ছে না। অপরিশোধিত তেলের দাম তো হু হু করে কমছে! সহজ কথায়, গ্রাহকদের পকেট কাটা হচ্ছে (গ্যাজিং)। আমি বিচার বিভাগকে অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছি।’

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বাজারে তেলের দাম জানুয়ারি মাসের তুলনায় এখনো অনেক বেশি। গত জানুয়ারিতে প্রতি গ্যালন তেলের দাম ছিল ২ দশমিক ৭৬ ডলার, যার এক মাস পরেই ইরান সংকট শুরু হয়। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল ৩ দশমিক ৯৩ ডলার, যা মে মাসের সর্বোচ্চ দামের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ কম।

অন্যদিকে, মে মাসে অপরিশোধিত তেলের দাম যেখানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, সেখান থেকে তা এখন প্রায় ৩৬ শতাংশ কমেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি সই হওয়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খোলার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের এই বড় পতন ঘটে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।

তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্যিক সংগঠন আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (এপিআই) অবশ্য ট্রাম্পের এই অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র বেথানি উইলিয়ামস বলেন, ‘গ্যাসোলিনের (খুচরা তেল) দাম সব সময় অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে হুবহু তাল মিলিয়ে চলে না। বিশেষ করে যখন বিশ্বব্যাপী বড় কোনো অস্থিরতা তৈরি হয়, তখন সরবরাহ চেইন, তেল শোধন (রিফাইনিং) এবং মজুতের ওপর তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থেকে যায়।’

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

ওপেক ত্যাগের কথা ভাবছে ইরাক

শেয়ারবাজারে এসেই হুলুস্থুল: বন্ড বিক্রির ঘোষণার পরই হারাল ৬০০ বিলিয়ন ডলার

বিশ্ববাজারে আবার কমল তেলের দাম, চাঙা এশিয়ার শেয়ারবাজার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিতে কমল তেলের দাম, মার্চের পর সর্বনিম্ন

পাম্প থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি কেনায় নিষেধাজ্ঞা ভারতের, নেপথ্যে কী

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর আরও ১০–১২.৫% শুল্কারোপের পাঁয়তারা যুক্তরাষ্ট্রের

আবারও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য, তেলের দাম বাড়ল আরও ১ শতাংশের বেশি

ভারত-ওমান বাণিজ্য চুক্তি যেভাবে হরমুজের বিকল্প পথ দেখাচ্ছে

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

শান্তিচুক্তির সম্ভাবনায় আরও কমল তেলের দাম, চাঙা বিশ্ববাজার