ব্যবসা সহজ করার পথে বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট বাধাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের কার্যকর উপায়ের একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই সুপারিশমালা জমা দিতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ব্যবসায়ীরা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক একটি বাস্তবধর্মী ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁরা সরকারের কাছে পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন।
আজ বুধবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এই নির্দেশ দেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) পরিচালনা পর্ষদ। সচিবালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাতের পর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহসভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, ফয়সাল সামাদ, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, নাফিস-উদ-দৌলা, মজুমদার আরিফুর রহমান এবং ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনীসহ আরও অনেকে।
বৈঠকে পোশাক খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বর্তমানে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বস্ত্র ও পোশাক খাতে এখনো প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা অনিষ্পন্ন থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র অর্থ সংকটে রয়েছে, যা রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এ সময় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বকেয়া নগদ সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করা, একইসঙ্গে এই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও গতিশীল করা এবং কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে (বর্তমানে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থ ছাড়ের বিধান রয়েছে) আবেদন জমার সঙ্গে সঙ্গেই অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করার দাবিজ জানানো হয়।
এ সময় ব্যবসায়ীরা বলেন, তফসিলি ব্যাংকগুলো এনপিএল পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে গিয়ে অনেক সময় ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও সংশ্লিষ্ট কারখানাকে প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয় না। ফলে কারখানা সচল হতে পারে না এবং ঋণ পরিশোধও বাধাগ্রস্ত হয়। একে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতিতে রূপান্তরের প্রস্তাব দেন তারা। এজন্য পুনঃতফসিলের পাশাপাশি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল জোগান দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। ব্যবসায়ীরা দাবি করেন এতে কারখানা সচল হবে এবং ব্যাংকও তার পাওনা ফেরত পাবে।
বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা বলেন, বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে ব্যবসা সহজীকরণ এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। তারা কাস্টমস, বন্দর এবং অন্যান্য প্রশাসনিক স্তরে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নীতি সহায়তার অনুরোধ জানান।
অর্থমন্ত্রী এসব দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বকেয়া অর্থ দ্রুত ছাড় করার বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি জানান এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও সহজতর করার আশ্বাস প্রদান করেন।
অর্থমন্ত্রী পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে এই খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নীতি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেছেন।