দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতাসক্ষম এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে কর ও শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের রূপান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অটোমেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এবারের বাজেটের প্রধান আকর্ষণ হলো ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য আগামী ৫ বছরের একটি সুনির্দিষ্ট ও প্রগতিশীল করমুক্ত সীমার রোডম্যাপ ঘোষণা করা। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) প্রসার এবং দেশীয় শিল্পকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করতে কাস্টমস আইনে কিছু প্রস্তাব আনা হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে এবং জীবাংশ জ্বালানি ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে কঠোর ও নরম নীতির সমন্বয় করা হয়েছে:
২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য কর: সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শতভাগ কর অব্যাহতি থাকবে।
ভোক্তাদের জন্য রেয়াত: সাধারণ গ্রাহকেরা সৌর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫% কর রেয়াত সুবিধা পাবেন।
উপকরণ আমদানিতে ছাড়: সৌর বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর আগামী ৩০ জুন, ২০৩১ পর্যন্ত শূন্য করা হয়েছে। তবে দেশীয় মাউন্টিং স্ট্রাকচার বা ব্যাটারি উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের রেয়াতি সুবিধা ২০২৮ সালের পর প্রত্যাহার করা হবে।
চার্জিং স্টেশনে শূন্য শুল্ক: ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের আমদানি করভার ৩৯.৭৫% থেকে কমিয়ে শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ইভি রেজিস্ট্রেশন ট্যাক্স হ্রাস: বৈদ্যুতিক গাড়ি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অগ্রিম করের হার ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী (২০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ২৫,০০০ টাকা, ৩০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৫০,০০০ টাকা, ৪০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ৭৫,০০০ টাকা এবং ৪০০ কিলোওয়াটের বেশি ধারণক্ষমতার জন্য ১,০০,০০০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে।
আমদানিতে ছাড়: ২৫ হাজার ডলার মূল্যের ইভি আমদানিতে মোট করভার ৯৩% থেকে কমিয়ে ৬৪% এবং ৫০ হাজার ডলার মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০% নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ই-বাস ও ই-ট্রাক আমদানিতে ভ্যাট ব্যতীত সকল শুল্ক-কর অব্যাহতির সুবিধা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় ইভি উৎপাদন: চার চাকা বা তিন চাকার ইভি উৎপাদনে স্থানীয়ভাবে বড় মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঁচামাল আমদানিতে ৩% শুল্ক বাদে সব কর মওকুফ করা হয়েছে। কম মূল্য সংযোজনকারীদের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক হবে ১৫%।
ডিজেল-পেট্রোল চালিত গাড়িতে বাড়তি শুল্ক: ডিজেল বা পেট্রোল চালিত মাঝারি মানের (১২০০-১৬০০ সিসি) আমদানিকৃত গাড়ির সামগ্রিক করভার ১৩২.৩৬% থেকে বাড়িয়ে ১৫৫.৮৮ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।