হোম > অর্থনীতি

রেকর্ড ৮০০ কোটি ডলার ‘উত্তরাধিকার কর’ দিল স্যামসাং পরিবার, বাংলাদেশেও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

দক্ষিণ কোরিয়ার বিজনেস টাইকুন স্যামসাং পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্ট স্যামসাংয়ের কর্ণধার লি পরিবার এক অনন্য নজির স্থাপন করল। প্রয়াত চেয়ারম্যান লি কুন-হির রেখে যাওয়া বিশাল সম্পত্তির উত্তরাধিকার কর বা ‘ইনহেরিটেন্স ট্যাক্স’ বাবদ প্রায় ৮০০ কোটি ডলার (১২ ট্রিলিয়ন উওন) কর মিটিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে এটিই ব্যক্তিগত পর্যায়ে সবচেয়ে বড় কর পরিশোধের ঘটনা।

এদিকে, বৈশ্বিক এই রীতির আদলে বাংলাদেশেও ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে উত্তরাধিকার কর আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

গতকাল রোববার স্যামসাং কর্তৃপক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ং এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গত পাঁচ বছর ধরে মোট ছয়টি কিস্তিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ সম্পন্ন করেছেন। ২০২০ সালের অক্টোবরে লি কুন-হির মৃত্যুর পর প্রায় ২৬ ট্রিলিয়ন উওন মূল্যের বিশাল সম্পত্তির বিপরীতে এই কর নির্ধারিত হয়েছিল।

বিশাল অঙ্কের কর: এই করের পরিমাণ ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের সংগৃহীত মোট উত্তরাধিকার করের প্রায় দেড় গুণ। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্পত্তির মধ্যে স্যামসাংয়ের শেয়ার ছাড়াও ছিল প্রচুর রিয়েল এস্টেট এবং অমূল্য সব আর্ট কালেকশন।

নাগরিক দায়িত্ব: কর পরিশোধের পর লি পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, "নাগরিক হিসেবে কর প্রদান করা একটি স্বাভাবিক দায়িত্ব।" দক্ষিণ কোরিয়ার ‘চেবল’ বা পারিবারিক মালিকানাধীন ব্যবসাগুলোর স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক।

সম্পদ বৃদ্ধি: ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, গত এক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চিপের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ায় স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের শেয়ারের দাম বহুগুণ বেড়েছে, যার ফলে লি পরিবারের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ এখন ৪,৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশেও উত্তরাধিকার কর আরোপের তোড়জোড়

উন্নত বিশ্বের আদলে বাংলাদেশেও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের ওপর ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে আয়কর ধার্য করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এনবিআর গঠিত নজরুল আলম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের বিশেষ কমিটি ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, সম্পদের পরিমাণ এবং সম্পর্কের দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে করের হার নির্ধারিত হবে:

১. নিকটাত্মীয় (বাবা-মা, ভাইবোন):

১ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদ: ১ শতাংশ কর।

পরবর্তী ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত: ২ শতাংশ কর।

পরবর্তী ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত: ৩ শতাংশ কর।

১১ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে: ৫ শতাংশ হারে কর।

২. দূরবর্তী আত্মীয় (দাদা-দাদি, নানা-নানি, শ্বশুর-শাশুড়ি):

১ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদ: ৩ শতাংশ কর।

পরবর্তী ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত: ৫ শতাংশ কর।

পরবর্তী ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত: ৭ শতাংশ কর।

১১ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে: ১০ শতাংশ হারে কর।

আর্থিক প্রভাব ও প্রয়োগের চ্যালেঞ্জ:

এনবিআর-এর হিসাব অনুযায়ী, এই কর কার্যকর হলে আয়কর আদায় ১ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৪ থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা। তবে বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই কর আরোপ করা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এনবিআর সূত্র জানায়, এই আইনের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সম্মতির ওপর।

জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে কঠোর ‘এস্টেট ট্যাক্স’ বা উত্তরাধিকার কর চালু আছে। তবে বিনিয়োগ টানতে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা, হংকং এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশ এই কর বিলুপ্ত করে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সের ওপর জোর দিয়েছে।

এপ্রিলে এসেছে ৬ লাখ টন জ্বালানি তেল, আসবে এ মাসেও

দীর্ঘ খরা শেষে গতি ফিরল রপ্তানি আয়ে

নতুন কর্মী কম যাচ্ছেন, বেশি ডলার আসছে

টানা তৃতীয়বারের মতো তেল উৎপাদন বাড়াতে সম্মত হয়েছে ‘ওপেক-প্লাস’

বিএসটিআইয়ের নতুন মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক

জনতা ব্যাংকে বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স উদ্বোধন

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন: ভোট গণনার আগে আবারও বন্ধ বুড়িমারী স্থলবন্দর

মে মাসের এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ, কার্যকর সন্ধ্যা থেকে

ঢাকায় দ্রুত ওষুধ ডেলিভারি দিতে চুক্তি করল গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেড ও ফুডি

নেপালে ওয়ালটন গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউটর মিট-২০২৬ অনুষ্ঠিত