হোম > অর্থনীতি

যেভাবে ডলার ছাপা হয়

রবার্ট কিয়োসাকি

ছবি: সংগৃহীত

বেশির ভাগ মানুষ মনে করে, ইউএস মিন্ট (মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের একটি ব্যুরো) ডলার ছাপে। সরকার প্রিন্টারে কমান্ড দেয় আর বিশ্বজুড়ে ডলার ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু সে ধারণা ভুল। সত্যিটা অনেক ভয়াবহ- আর এটাই আপনার সম্পদ ‘চুরির’ কারণ।

প্রকৃত অর্থে যা ঘটে, তা নিচে দেওয়া হলো-

ধাপ-১: সরকার হাতে না থাকা অর্থ ব্যয় করে

ওয়াশিংটন কখনোই এত রাজস্ব আয় করতে পারেনি, যা দিয়ে সে রাষ্ট্রীয় পুরো খরচ বহন করতে পারে। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর বাজারে বন্ড ছাড়ে। এসব বন্ডে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকে। এসব বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত ঋণ জাতীয় ঘাটতি বাড়িয়ে তোলে। প্রতি ৯০ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ এখন প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ২২ লাখ ৯৯ হাজার ১২০ কোটি কোটি টাকা) করে বাড়ছে।

হ্যাঁ, এটাই বাস্তবতা। প্রতি তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার করে বাড়ছে।

ধাপ-২: ফেডারেল রিজার্ভ নতুন টাকা তৈরি করে

বাজারে ছাড়া বন্ডগুলো কিনছে ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। কিন্তু বাজারে বিদ্যমান অর্থ দিয়ে কিন্তু এসব বন্ড কেনা হচ্ছে না। ফেড এগুলো কিনছে ইলেক্ট্রনিক্যালি নতুন টাকা সৃষ্টি করে। কিবোর্ডে মাত্র কয়েকটি কমান্ড দিয়েই ফেড ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে নতুন রিজার্ভ (নতুন সৃষ্ট অর্থ) থেকে ঋণ দিচ্ছে, এবং অর্থ সরবরাহের নতুন কাঁচামালে পরিণত হচ্ছে এসব রিজার্ভ। এসব অর্থ কিন্তু কাগুজে ডলার নয়, ডিজিটাল ডলার।

ধাপ-৩: ঋণের মাধ্যমে সেই অর্থ কয়েক গুণ বাড়ায় ব্যাংকগুলো

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নতুন রিজার্ভ নিয়ে ঋণ দেওয়া শুরু করে। যখন একটি ব্যাংক কোনো মর্টগেজ কিংবা ব্যবসায়িক ঋণ অনুমোদন করে, সে কিন্তু অন্য কারও আমানত থেকে ঋণ দেয় না। আপনার অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ব্যাংক তখন একেবারেই নতুন একটি হিসাব খোলে। সেই হিসাবই এরপর থেকে ডলার হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে। প্রতিটা নতুন ঋণ ডলারের সার্বিক সরবরাহকে বিস্তৃত করতে থাকে।

ধাপ-৪: একই পণ্যের জন্য আরও বেশি ডলার- মূল্যস্ফীতি

অর্থনীতি যদি আরও বেশি পণ্য ও সেবা তৈরি করতে না পারে, তাহলে বাজারে ডলারের নতুন প্রবাহ সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ একই পণ্য আরও বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়। এটাই মূল্যস্ফীতি। এতে আপনার সঞ্চিত অর্থের মূল্য কমে যায়। এতে একদিকে আপনি ক্রমাগত বেশি দামে পণ্য কিনতে থাকেন, অপরদিকে ঋণভিত্তিক ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হতে থাকে।

ধাপ ৫: কে জেতে, কে হারে

মূল্যস্ফীতি হলো একটি অদৃশ্য কর। এটি সঞ্চয়কারী ও চাকরিজীবীদের শাস্তি দেয়। এই মানুষগুলো টাকার জন্য কাজ করে। মূল্যস্ফীতি তাদেরই পুরস্কৃত করে, যারা ঋণগ্রহীতা ও বিনিয়োগকারী। এই মানুষগুলো সম্পদ কেনে।

এ কারণেই আমি বলতে থাকি: সঞ্চয়কারীরা পরাজিতের দলে, আর ঋণগ্রহীতারা ধনী হয়।

টাকা তৈরির পেছনের প্রকৃত সত্য আপনি যখন জানবেন, তখন প্রচলিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আপনার ক্ষোভ কমে আসবে। বরং আপনি তখন টাকা যে নিয়ম অনুসরণ করে, সে নিয়ম অনুসরণ করেই খেলতে শুরু করবেন।

- ঋণ নিন সম্পদ কিনতে।

- মূল্যস্ফীতিকে বাধ্য করুন আপনার ঋণ পরিশোধ করতে।

- আবাসন খাতে বিনিয়োগ করুন। কারণ ডলারের পতন হলে আবাসন খাত ঊর্ধ্বমুখী হয়।

এভাবেই ধনীরা এগিয়ে থাকে।

টাকার জন্য কাজ করা বন্ধ করুন।

টাকা কীভাবে কাজ করে, তা শিখতে শুরু করুন।

লেখক: ‘রিচ ড্যাডি পুওর ড্যাডি’ গ্রন্থের রচয়িতা

[লেখাটি রবার্ট কিয়োসাকির ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্ট থেকে অনুবাদকৃত]

আট মাসে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ৩৫ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা

আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

আয়কর রিটার্ন জমার সময় শেষ হচ্ছে কাল, সময় বাড়াবেন যেভাবে

বকেয়া বেতনের দাবিতে খামারবাড়িতে আউটসোর্সিং কর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি

বাপার নতুন সভাপতি লাল তীর সিডের এমডি মাহবুব আনাম

পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা ফেরত আনল সিআইডি

বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ ইইউর

জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ১১৫ ডলার, এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন

এবার স্ক্র্যাপ ও জ্বালানি সংকটে ইস্পাত শিল্প

বাণিজ্যের আড়ালে ১০ বছরে পাচার ৮ লাখ কোটি টাকা