পুঁজিবাজার সংস্কার
দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) একীভূত করে অন্তর্বর্তী সরকার একটি জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। পুঁজিবাজারের সংস্কার, শক্তিশালীকরণ এবং দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ ও আস্থার উন্নয়নের স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছা। এ লক্ষ্যে আজ বুধবার বিশেষ সভা ডেকেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্রমতে, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সভাকক্ষে বিভিন্ন অংশীজনকে নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ডিএসই ও সিএসই একীভূত করা, সিডিবিএলকে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত করা এবং সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিসিবিএল) ডিএসইর সাবসিডিয়ারি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল ডিএসই প্রতিষ্ঠিত হয়। এর বাজার মূলধন ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৪৯২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের সংখ্যা ৬৫১টি। তবে সিকিউরিটিজ ছাড়া তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৯৭টি। আবার মিউচুয়াল ফান্ড ছাড়া কোম্পানির সংখ্যা ৩৬০টি। ৪ শতাধিক ব্রোকার হাউসের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের দৈনিক গড় লেনদেন ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকায় ওঠানামা করছে।
অন্যদিকে সিএসই প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূলধন ৭ লাখ ৮২ হাজার ৭৬০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। বর্তমানে ৪ শ সিকিউরিটিজ রয়েছে। দিনে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, বন্ড এবং মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ মাত্র ১৫ দিন। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ এই মুহূর্তে কার্যকর হবে না। তাঁরা বলছেন, স্টক এক্সচেঞ্জ একীভূত করা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়, যা নির্বাচিত সরকার ছাড়া বাস্তবায়ন সহজ হবে না। তবে প্রস্তাবটি আগামী সরকারের জন্য রেখে যাওয়া সার্থক উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরা।
ইতিমধ্যে এই সভায় অংশগ্রহণের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিসএসইসি) চেয়ারম্যান, ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল ও সিসিবিএলের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের অনুরোধ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রতিষ্ঠার পর দুই স্টক এক্সচেঞ্জই এখন পর্যন্ত কার্যকর লাভ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। তদুপরি সামষ্টিক অর্থনীতিতে এই পুঁজিবাজারের অবদানও উল্লেখ করার মতো নয়। সার্বিক বিবেচনায়, একক স্টক এক্সচেঞ্জের প্রস্তাব ভালো, যদিও এ কাজ আরও আগেই করা উচিত ছিল।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশে পুঁজিবাজার বলতে মূলত ডিএসইকেই বোঝায়। ৩০ বছর পার হলেও সিএসই বাজার গড়তে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সরকারের উচিত একক পুঁজিবাজার হিসেবে ডিএসই রাখা এবং সিএসইকে কমোডিটি এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করা।
সিএসইর চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে গেলে বোঝা যাবে, সরকার কী করতে চায় এবং একীভূত হলে আইনগত সুবিধা-অসুবিধা কী হবে।