দেশের ৫ শতাংশ মানুষের হাতে অধিকাংশ সম্পদ কেন্দ্রীভূত থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেটে সেই বৈষম্য কমানোর কার্যকর রূপরেখা স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন।
জাতীয় সংসদে আজ মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুহুল আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫ শতাংশ মানুষের হাতে গোটা দেশের টাকা, আর ৯৫ শতাংশ মানুষের হাতে বাকি টাকা। এই বৈষম্য নিয়ে একটি দেশ ভালোভাবে চলতে পারে না। বাজেট শুধু উন্নয়ন বা টাকার হিসাব নয়; বাজেটের সঙ্গে মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার প্রশ্নও জড়িত।’
দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, গুম, আয়নাঘর, ফ্যাসিবাদ ও গণহত্যার প্রশ্নে সংসদের সব সদস্যের ঐকমত্য থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন বিরোধী দলের এ সদস্য।
পাবনা-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগার বাজেটের ঘাটতি, রাজস্ব আদায় এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হলেও প্রাথমিক, গণশিক্ষা, মাধ্যমিক, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার উপখাতে হিসাব করলে একটি ব্যবধান দেখা যায়। স্বাস্থ্য খাতেও একই ধরনের অস্পষ্টতা আছে দাবি করে তিনি বলেন, কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হবে, তা পরিষ্কারভাবে জানা যাচ্ছে না।
আবাসন খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন আলী আছগার। তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিএনপির সংসদ সদস্য শামিম কায়সার বলেন, চলতি বাজেটে এমন কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। জবাবে আলী আছগার জানান, তিনি বাজেট নথি (আবাসন) থেকেই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এবং বিষয়টি পড়ে দেখার অনুরোধ জানান।
পাবনা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আবু তালেব মণ্ডল বাজেটে শিক্ষা খাতের বরাদ্দে অদৃশ্য ব্যয় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মোট বরাদ্দের সঙ্গে উপখাতের ব্যয়ের হিসাবের পার্থক্য স্পষ্ট করা দরকার।
কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের ১০টি অগ্রাধিকারের মধ্যে সুশাসনের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। তিনি বলেন, ‘এই বাজেট উচ্চাভিলাষী, অবাস্তব রাজস্ব আয়ের বাজেট। এই বাজেট অতিঋণনির্ভর বাজেট।’
বগুড়া-৬ আসনের (বিএনপি) সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা প্রস্তাবিত বাজেটকে গণমুখী, উৎপাদনমুখী, জনবান্ধব, জনকল্যাণ ও মানবিক বলে বর্ণনা করেন। বাজেটকে যাঁরা স্বপ্নবিলাসী বলছেন, তাঁদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘স্বপ্নই যদি না থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কী করে?’
জুলাই যোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা, নারী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিত-সেবায়েতদের সম্মানী, খেলাকে পেশা হিসেবে দেখা এবং কিডনি ও হৃদ্রোগের চিকিৎসা সরঞ্জামে শুল্ক কমানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন রেজাউল করিম।
গাইবান্ধা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম বলেন, শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের প্রায় ১৩ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষক তৈরি করা সম্ভব নয়।
পটুয়াখালী-৪ আসনের (বিএনপি) সংসদ সদস্য এ বি এম মোশারফ হোসেন বাজেটকে বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তুলে ধরলেও বরিশাল অঞ্চলের বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনার উন্নয়ন হবে, আর বরিশাল বঞ্চিত থাকবে—এটা হতে পারে না।