ছুটির দিনে অফিস-আদালতের ব্যস্ততা না থাকলেও রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন কমছে না। চাহিদা মেটাতে গিয়ে অনেক পাম্পের সংরক্ষণাগার দ্রুত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
আজ শনিবার ঢাকা মহানগরীতে নিযুক্ত ট্যাগ অফিসার ও পাম্প ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
বিকেলে মোহাম্মদপুর থেকে ফার্মগেটে আসা একজন বাইকচালক জানান, অফিস বন্ধ থাকুক আর খোলা থাকুক, পাম্পে ভিড় আগের মতোই রয়ে গেছে। বাইকাররা এত তেল নিয়ে কীভাবে খরচ করে ফেলছেন বোধগম্য হচ্ছে না। সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে একটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। সেখানে তেল সংগ্রহ করতে আসা মোটরসাইকেলের লাইন চলে এসেছে বিজয় সরণি। এটি এখন ঢাকার নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্র ও শনিবার বরাদ্দ না পাওয়ায় অনেক পাম্পে তেল ছিল না। আবার যেসব পাম্প বরাদ্দ পেয়েছে, সেখানে যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। কোথাও কোথাও লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তেল বিপণনে কোনো ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন ট্যাগ অফিসাররা। গত ৩০ মার্চ থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সব পাম্প ট্যাগ অফিসারদের আওতায় এনেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
মাতুয়াইল খান অ্যান্ড চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের আওয়াল মিয়া শনিবার আজাকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গত শুক্রবারের আগের শুক্রবার সাড়ে ৪ হাজার লিটার অকটেনের বরাদ্দ পেয়েছিলাম। এটা পরের দিনই শেষ হয়ে গেছে। গত ৯ দিনে আর অকটেন আসেনি। তবে নিয়মিত ডিজেল বরাদ্দ পাচ্ছি। গতকালও ১৮ হাজার লিটার ডিজেল এসেছে, আজও ১৮ হাজার লিটার ডিজেল এসেছে। দীর্ঘদিন অকটেন না থাকার কারণে এখানে আর লাইনও নাই। সাধারণত আমরা দৈনিক ২ হাজার ৩০০ লিটার ডিজেল পেতাম।’
ঢাকার হাটখোলা সড়কে এ হাই অ্যান্ড কোং, ইত্তেফাক মোড়ে রহমান ফিলিং এবং মতিঝিল ব্যাংকপাড়ায় পূবালী ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এসব এলাকায় ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন পদ্মা অয়েলের সহকারী ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার সাহা। তিনি জানান, পূবালীকে অকটেন দেওয়া হয়নি। অন্য পাম্পগুলোতে অকটেন ছিল। তবে অফিসপাড়া হওয়ায় শনিবার এসব এলাকায় ভিড় তুলনামূলক কম ছিল। এসব পাম্পে ডিজেল বিতরণে সমস্যা হচ্ছে না। তবে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য গাড়িতে শৃঙ্খলায় আনা যাচ্ছে। সুযোগ পেলেই তারা লাইন অমান্য করছে। তেল না থাকা সত্ত্বেও অনেকে তেল পাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে।
মাহখালী সোহাগ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার অসিত জানান, আগের বছর কম তেল বিক্রির কারণে চলতি বছর তাঁদের বরাদ্দ কম যাচ্ছে। সে কারণে শুক্র ও শনিবার তাঁরা তেল বরাদ্দ পাননি।
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের জুনিয়র কর্মকর্তা বাঁধন দাশ জানান, তেজগাঁওয়ে কামাল ট্রেডিং ও সততা ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে আছেন। এসব এলাকায় গাড়ির ভিড় অনেক বেশি। যত তেল দেওয়া হোক না কেন প্রতি রাতেই রিজার্ভে তেল শেষ হয়ে যায়। তবে শনিবার দুটো পাম্পই তেল পেয়েছে এবং সচল ছিল। এদিন নারী বাইকারদের জন্য পৃথক লাইন তৈরি করতে গেলে সেখানে পুরুষদের বাধায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে জানান তিনি।