দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘ মেয়াদে আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতাসক্ষম এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে কর ও শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের রূপান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অটোমেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এবারের বাজেটের প্রধান আকর্ষণ হলো ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য আগামী ৫ বছরের একটি সুনির্দিষ্ট ও প্রগতিশীল করমুক্ত সীমার রোডম্যাপ ঘোষণা করা। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) প্রসার এবং দেশীয় শিল্পকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করতে কাস্টমস আইনে কিছু প্রস্তাব আনা হয়েছে।
সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করতে এবং কৃষির উৎপাদন খরচ কমাতে ব্যাপক কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে:
৬০টি নিত্যপণ্যে কর হ্রাস: চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজ, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছসহ ৬০টি মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের উৎসে করের হার ৫%, ২% বা ১% থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভোজ্যতেল উৎপাদনে ১০ বছরের কর অব্যাহতি: দেশীয় তৈলবীজ থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী শিল্পকে চাঙা করতে প্রথম ৫ বছর ১০০%, পরবর্তী ৩ বছর ৫০% এবং শেষ ২ বছর ২৫% কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
কৃষি উপকরণ ও কীটনাশক: স্থানীয়ভাবে কীটনাশক ও বালাইনাশক উৎপাদনে ব্যবহৃত ৩৬টি অতিপ্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পুরোপুরি প্রত্যাহার করে শূন্য শতাংশ করা হয়েছে।
সার ও ভেটেরিনারি ওষুধ: স্থানীয়ভাবে জিংক সালফেট সার উৎপাদনে ব্যবহৃত ‘জিংক অ্যাশ’ আমদানির শুল্ক শূন্য করা হয়েছে। এ ছাড়া ভেটেরিনারি ওষুধের আমদানিতে সুনির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পরিবর্তে জেনেরিক ক্যাটাগরির আওতায় সব ওষুধে শূন্য শতাংশ রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মসলা ও খেজুর আমদানিতে ছাড়: দৈনন্দিন রান্নায় ব্যবহৃত সব ধরনের মসলা এবং খেজুর আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।