সরকার জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১০.৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৮.৭৪ শতাংশ, যা ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও নির্দেশনাসহ সুদের হার নিয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন দিয়েছে।
নতুন হার অনুসারে, কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফা তুলনামূলকভাবে বেশি। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা তার কম বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফা পাওয়া যাবে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিবার সঞ্চয়পত্রে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মুনাফা আগে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ ছিল, যা নতুন হার অনুযায়ী ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগে আগের মুনাফা হার ছিল ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ, এখন সে মুনাফা কমে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।
পেনশনের সঞ্চয়পত্রেও একই ধারা অনুসরণ করা হয়েছে; সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে আগের ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং তার বেশি বিনিয়োগে আগের ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ মুনাফা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।
পাঁচ বছরের মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও সমন্বয় করা হয়েছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফা ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ, আর বেশি বিনিয়োগে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।
এ ছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রেও মুনাফা কমানো হয়েছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে মেয়াদ শেষে মুনাফা ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং বেশি বিনিয়োগে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ১ জুলাই ইস্যু করা সব সঞ্চয়পত্রে আগের মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। তবে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেই তারিখের নতুন হার প্রযোজ্য হবে।