খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)। এ ছাড়া বাজারে অস্থিরতা, মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং করপোরেট সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে প্রান্তিক খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদানসহ আরও পাঁচটি দাবি জানিয়েছে বিপিএ। আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কয়েক মাস ধরে উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে মুরগির ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না খামারিরা। এতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার শিল্প ও প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে। পোলট্রি খাতে কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। যেখানে একটি বাচ্চার দাম সাধারণত ৩০ টাকার মধ্যে থাকার কথা, সেখানে কিছু কোম্পানি তা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা উৎপাদন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক খামারি লোকসানের কারণে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাচ্ছে এবং ক্ষুদ্র খামারিরা টিকে থাকতে পারছেন না।
বিপিএ নেতা সুলতান হাসান বলেন, ‘আমরা লোকসান করতে করতে ভিটেমাটি সব হারিয়েছি। পরিবার নিয়ে চলতে পারছি না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারকে বলতে চাই, আমাদের প্রণোদনা দিন। আমাদের পাশে দাঁড়ান।’
বিপিএ সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, ‘সরকার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। ডিম আমদানি করা হচ্ছে, এতে ক্ষুদ্র খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সিন্ডিকেটের সঙ্গে অনেক সরকারি লোক জড়িত। আমরা সরকারের সঙ্গে বসতে চাই। আমাদের দুঃখগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরতে চাই। আমরা আশা করি সরকার আমাদের দিকে সুনজর দেবে।’
দাবিগুলো হলো প্রান্তিক খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান; সিন্ডিকেট ও করপোরেট আধিপত্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা; মুরগির বাচ্চা, খাদ্য ও ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা; খামারিদের জন্য ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন; ডিম ও মুরগির বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে সঠিক বাজারব্যবস্থা চালু করা এবং প্রান্তিক খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা নিশ্চিত করা।