হোম > অর্থনীতি

ঋণের বোঝা দরিদ্র দেশের কাঁধে

নাদিম নেওয়াজ, ঢাকা

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোই এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি কিংবা কৃষি উৎপাদনে ধাক্কা—সবকিছুর ভার বহন করছে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলো। সেই ক্ষতি মোকাবিলায় ধনী দেশগুলোর প্রতিশ্রুত ‘জলবায়ু অর্থায়ন সহায়তা’র লক্ষ্য ইতিমধ্যে টানা তৃতীয় বছরের মতো ১০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। কিন্তু এই সহায়তার বড় অংশই অনুদানের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে ঋণ হিসেবে, যা নতুন করে দরিদ্র দেশগুলোর দেনার বোঝা বাড়াচ্ছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো জলবায়ু অর্থায়ন সহায়তা ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য ছাড়িয়ে ১১৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে তা বেড়ে হয় ১৩২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৪ সালে জলবায়ু অর্থায়ন আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে।

এই অর্থ মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তে থাকা প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তার জন্য দেওয়া হয়। এই অর্থায়নের উৎস হলো উন্নত দেশগুলোর সরকার এবং বেসরকারি খাত ও বিশ্বব্যাংকের মতো বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সংস্থা। তবে সহায়তার পরিমাণ বাড়লেও এর ধরন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক। ওইসিডির তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে সরকারি জলবায়ু অর্থায়নের ৭৩ শতাংশই ছিল ঋণ। ২০২৪ সালে তা কিছুটা কমে ৬৭ শতাংশে নেমেছে। অর্থাৎ এখনো দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অর্থ উন্নয়নশীল দেশগুলো পাচ্ছে ঋণ হিসেবে, যা পরবর্তী সময়ে সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।

২০২৪ সালে সরকারি অর্থায়ন ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এলেও বেসরকারি খাতের অবদান ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৩০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ওইসিডির প্রতিবেদন তৈরির প্রধান রাফায়েল জাচনিক বলেন, ২০২৩ সালে বড় উল্লম্ফনের পর ২০২৪ সালে সরকারি অর্থায়ন স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে।

তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা প্রকাশিত এই অর্থায়নের বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের নামে উন্নত দেশগুলো ভণ্ডামি করছে। তাদের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে। তারা যে অর্থ সহায়তার কথা বলে, বাস্তবে তার ৪ ভাগের ১ ভাগও পাওয়া যায় না।

ড. ফজলে রাব্বি ছাদেকের ভাষ্য, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জলবায়ুজনিত ক্ষতির তুলনায় সহায়তা খুবই সামান্য। পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোর অর্থায়নের হিসাবে ডাবল কাউন্টিং ও বাজারভিত্তিক বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত করায় প্রকৃত চিত্র আরও অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এলডিসি ইউনিভার্সিটিস কনসোর্টিয়াম অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (এলইউসিসিসি) টেকনিক্যাল লিড অধ্যাপক মিজান আর খান বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু অর্থায়নের দুই-তৃতীয়াংশ আসে ঋণ হিসেবে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হয়েও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোই এখন ক্ষতি সামাল দিতে ঋণের বোঝা বইছে। এটি প্রকৃতপক্ষেই অবিচার।

নাইরোবিভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার শিফট আফ্রিকার পরিচালক মোহাম্মদ আদো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলো, অথচ সেই সংকট মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোকে ঋণ দিয়ে তারাই লাভ করছে। এটি পুরোপুরি কেলেঙ্কারি।

নতুন লক্ষ্য নিয়েও অনিশ্চয়তা

জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশগুলোর টানাপোড়েন বহুদিনের। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি পূরণে ধনী দেশগুলো বারবার দেরি করেছে।

২০২৪ সালে আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত কপ২৯ সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার নতুন অঙ্গীকার করে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি উৎস মিলিয়ে বছরে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়। যদিও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতে, এই অর্থও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

তবে ওইসিডি সতর্ক করে বলছে, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তবতায় সামনের এই নতুন লক্ষ্য অর্জনকে কঠিন করে তুলতে পারে।

ঋণ নয়, অনুদান দাবি

২০২৪ সালে জলবায়ু অর্থায়নের সবচেয়ে বড় অংশ পেয়েছে এশিয়ার দেশগুলো, যার পরিমাণ মোট অর্থের ৩৬ শতাংশ। আফ্রিকার অংশ ছিল ৩১ শতাংশ। কিন্তু দায়ী না হয়েও ক্ষতি সামলাতে তারা আর ঋণের বোঝা বাড়াতে চায় না। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর দাবি, জলবায়ু অর্থায়ন ঋণের বদলে অনুদান হিসেবেই দিতে হবে।

এ বিষয়ে আগামী জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এর মনোনীত সভাপতি তুরস্কের জলবায়ুমন্ত্রী মুরাত কুরুম বলেছেন, দাতাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

পিআরআইয়ের সতর্কতা: প্রবৃদ্ধিমুখী ব্যয় পদক্ষেপে বাড়বে মূল্যস্ফীতির চাপ

আস্থার ঘাটতির মধ্যেই বড় বিনিয়োগের স্বপ্ন

প্রাইম ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১২ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের চুক্তি, বেশির ভাগই সৌরবিদ্যুৎ

সোনার দাম বাড়ল ২১৫৮ টাকা

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি: রূপপুর প্রকল্পে নতুন আর্থিক চাপ

ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার হলেন আরও দুই ক্রেতা

সোনালী ব্যাংকের ১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

এনওসি ছাড়া পাকিস্তান থেকে আনা রক সল্ট আটকে দিল কাস্টমস

শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পেছাল