সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের দুর্বলতা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অদক্ষ পরিচালনার কারণে দেশের অনিশ্চিত দায় বা কনটিনজেন্ট লায়াবিলিটি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এ মুহূর্তে সরকারের এই দায় ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮২ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এর বড় অংশই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান (এসওই), স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং অকার্যকর লিজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। ভবিষ্যতে এ দায় হঠাৎ সরাসরি ব্যয়ে পরিণত হলে বাজেট ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
গতকাল শনিবার অর্থ বিভাগের স্ট্রেংদেনিং পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির এসওই গভর্ন্যান্স স্কিমের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ‘এসওই ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার সুশাসন: অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয়’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালাটি কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট ও সামষ্টিক অর্থনীতি) মো. হাসানুল মতিন বলেন, কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অদক্ষ পরিচালনার কারণে কনটিনজেন্ট লায়াবিলিটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই উদ্দেশ্যে একাধিক কর্তৃপক্ষ গড়ে ওঠায় কাজের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, যা পরিহার করা জরুরি। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ভালো শিখন চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুশাসনের পথে ফিরতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) ও এসপিএফএমএসের জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. জিয়াউল আবেদীন বলেন, বাজার অর্থনীতিতে কেবল বাণিজ্যিকভাবে টেকসই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোই টিকে থাকার কথা; কিন্তু বাংলাদেশে তা হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠান সংস্কারে শক্ত রাজনৈতিক অঙ্গীকার অপরিহার্য।
সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) রহিমা বেগম। তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও অদক্ষতা, দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির অভাবের কারণে ঋণ ও অনিশ্চিত দায় বেড়েছে। শক্তিশালী অডিট, ডিজিটাল সিস্টেম ও উন্নত তদারকির মাধ্যমে কার্যকর সমাধানের পথে এগোচ্ছে সরকার।