হোম > অর্থনীতি

পিআরআইয়ের সতর্কতা: প্রবৃদ্ধিমুখী ব্যয় পদক্ষেপে বাড়বে মূল্যস্ফীতির চাপ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

পিআরআই আয়োজিত ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিমুখী সংস্কারের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার: প্রাক্-বাজেট অগ্রাধিকার’ শীর্ষক গতকালের আলোচনা সভায় অতিথিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বিনিয়োগ, রাজস্ব ঘাটতি ও আর্থিক খাতের চাপের মধ্যে অর্থনীতিতে গতি ফেরানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করলে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই)। সংস্থাটি বলছে, অর্থনীতিকে টেকসই পথে ফেরাতে এখন প্রয়োজন উৎপাদনশীলতাভিত্তিক কাঠামোগত সংস্কার।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে পিআরআইয়ের সেন্টার ফর ম্যাক্রোইকোনমিক অ্যানালাইসিস (সিএমইএ) ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডের (ডিএফএটি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা উঠে আসে। সভার শিরোনাম ছিল ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিমুখী সংস্কারের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার: প্রাক্-বাজেট অগ্রাধিকার’।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব বা মুদ্রানীতি নেওয়ার মতো নীতিগত পরিসর সরকারের হাতে খুব সীমিত। কারণ, মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চপর্যায়ে রয়েছে, সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ছে এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে।

ড. আশিকুর রহমানের ভাষায়, এ পরিস্থিতিতে শুধু চাহিদা বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে গেলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, শুধু ব্যয় বাড়িয়ে বর্তমান সংকট থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। এখন প্রয়োজন উৎপাদনশীলতাকেন্দ্রিক সংস্কার।

ড. আশিকুর রহমান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনে জোর দিতে হবে। এ জন্য শক্তিশালী রাজস্ব আহরণ, বাস্তবসম্মত ব্যয় ব্যবস্থাপনা, ভর্তুকির যৌক্তিকীকরণ এবং ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি। তবে একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতে ব্যয় সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি বাজারের ধাক্কার মধ্যেও বাংলাদেশ কিছুটা স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে, বিনিয়োগ দুর্বল হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি উচ্চপর্যায়ে রয়ে গেছে।

জাইদী সাত্তার বলেন, বর্তমান শিল্পনীতি ও বাণিজ্যনীতি আর সময়োপযোগী নয়। শুধু অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর নির্ভর করে দীর্ঘ মেয়াদে ৭-৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য বাণিজ্য উন্মুক্ততা বাড়ানো, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ড. সাত্তার আরও বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য-জিডিপি অনুপাত কমে ৩০ থেকে ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য উদ্বেগজনক। পাশাপাশি জটিল ও উচ্চ শুল্ককাঠামোর কারণে বাংলাদেশ এখনো কার্যকর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সংস্কার যেন কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ না থাকে। ব্যাংকিং, জ্বালানি ও অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো যেন কোনো গোষ্ঠীস্বার্থের নিয়ন্ত্রণে না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, এডিপির দুর্বল বাস্তবায়ন, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার কারণে সরকারের ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা বেসরকারি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ঋণের বোঝা দরিদ্র দেশের কাঁধে

আস্থার ঘাটতির মধ্যেই বড় বিনিয়োগের স্বপ্ন

প্রাইম ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১২ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের চুক্তি, বেশির ভাগই সৌরবিদ্যুৎ

সোনার দাম বাড়ল ২১৫৮ টাকা

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি: রূপপুর প্রকল্পে নতুন আর্থিক চাপ

ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার হলেন আরও দুই ক্রেতা

সোনালী ব্যাংকের ১৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

এনওসি ছাড়া পাকিস্তান থেকে আনা রক সল্ট আটকে দিল কাস্টমস

শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পেছাল