ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখার জন্য ব্যাংকটি পুনর্দখল ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন আমানতকারীরা। তাঁরা বলেছেন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম ইসলামী ব্যাংক পুনর্দখলের চেষ্টা করছেন। এর প্রতিবাদে আমানতকারীরা গভর্নরকে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
আজ বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি শেষে আমানতকারীরা গভর্নরকে স্মারকলিপি দেন। এতে তাঁরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে। আর সমগ্র ব্যাংকিং খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রবাসী আয় আহরণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, শিল্প-বাণিজ্যে বিনিয়োগ ও গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যাংকটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তবে অতীতে পতিত সরকারের রাষ্ট্রীয় সহায়তায় এস আলম গ্রুপ ব্যাংকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং প্রক্সি পরিচালকের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদে প্রভাব বিস্তার করে। এর ফলে ঋণ জালিয়াতি, সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সুবিধা প্রদান, সুশাসনের অবক্ষয় ও দুর্বল তদারকির কারণে ব্যাংকটি গুরুতর সংকটে পড়ে।
স্মারকলিপিতে বিভিন্ন নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও ব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, এস আলম গ্রুপ নামে-বেনামে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করেছে, যা ব্যাংকটির আর্থিক সক্ষমতা ও গ্রাহক আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, এস আলম গ্রুপের স্বার্থে ব্যাংকের ঋণনীতি ও সম্পদ ব্যবহারের ফলে ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়েছে, খেলাপি ঋণ বেড়েছে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়েছে, যা সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমানে আবারও ওই গোষ্ঠী ব্যাংকে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। যদি এস আলম পুনরায় ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণের নামে পুনর্দখল করেন, তবে শুধু ইসলামী ব্যাংকই নয়, দেশের পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থার সংকট দেখা দিতে পারে, যা অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।
গভর্নরকে দেওয়া স্মারকলিপিতে আমানতকারীদের পাঁচ দফা দাবি হলো—এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগীদের ব্যাংকে পুনঃপ্রবেশ বন্ধ করা, পাচার ও আত্মসাৎকৃত অর্থ পুনরুদ্ধার, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এবং বিতর্কিত আইনি সুবিধা বাতিল করা।