৫ নভেম্বর ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট’
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে চান না মন্ত্রী। কারণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে অনেক সূক্ষ্ম কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সময়ের প্রয়োজন হয়। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট’ সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ভিভিআর ভালভ নিয়ে প্রায় দুই মাস কাজ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমস্যাটির সমাধান হয়েছে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এআই বিজনেস সামিটের সার্বিক প্রস্তুতি ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করতে ও জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানের এই সামিট আয়োজিত হচ্ছে।
প্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, চলমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল দর্শন দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘‘মানুষ, ব্যবসা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’’—এই তিনের নিখুঁত সমন্বয়ের ওপর।
সামিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সামিটে মোট তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম অধিবেশনে দুপুর ১২টায় এআই বিপ্লবের গতিপথ, নীতি, দক্ষতা ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত আলোচনা করবেন। একই সময়ে ‘হল অব ফেম’-এ আয়োজিত দ্বিতীয় অধিবেশনে একাডেমিয়া ও শিল্প খাতের অংশীদারত্ব জোরদার এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের কৌশলসমূহ উঠে আসবে। পরে বেলা ৩টায় তৃতীয় অধিবেশনে ‘ডিজিটাল সহকর্মী’ হিসেবে এআই এজেন্টদের ভূমিকা এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।
সামিটে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি, প্রযুক্তি প্রদানকারী এবং উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে মোট ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে। এতে দেড় শতাধিক স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রজেক্ট প্রদর্শন করবে। পাশাপাশি ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কলেজ) শিক্ষার্থীদের পরিচালিত এআই প্রজেক্ট ও প্রোটোটাইপ প্রদর্শনকারী উদ্ভাবনী স্টল থাকবে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি, পাকিস্তান থেকে চারটিসহ মোট পাঁচটি বিদেশি প্রদর্শক প্রতিষ্ঠান এই সামিটে অংশ নেবে।
সামিটে ছয় হাজার দর্শনার্থী ও দুই হাজার আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন, যার মধ্যে ঢাকা চেম্বার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০০ জন বিশেষ অতিথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, করপোরেট ব্যক্তিত্ব, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ২৭ জন বক্তা ও আলোচক এতে বক্তব্য দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে মূলত চারটি মূল স্তম্ভ বা পিলারের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের চর্চা বাড়ানো (স্টেম শিক্ষা), গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও পেপারকে কেবল তত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা সরাসরি বাজারের উপযোগী করা, ইনভেস্টর ও মার্কেটের সঙ্গে গবেষকদের সুদৃঢ় সেতুবন্ধন তৈরি করা এবং এআই, সেমিকন্ডাক্টর, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি, স্পেস রিসার্চ ও ব্লু-ইকোনমি নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করা।
এ ছাড়া দেশে প্রচুর মেধাবী গ্র্যাজুয়েট তৈরি হওয়ায় তাঁদের কাজে লাগাতে এবং নতুন ড্রাগ ও লাইফস্টাইল পণ্য উদ্ভাবনের জন্য বায়োটেক পার্ক স্থাপনের বড় সুযোগ রয়েছে বলেও বিজ্ঞানসচিব উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।