ক্যানসারসহ ছয়টি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত দুস্থ ও অসহায় রোগীদের এককালীন আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। এখন থেকে চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ লাখ টাকা করে অনুদান পাবেন রোগীরা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ঘোষণা দেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে ছয়টি দুরারোগ্য ও ব্যয়বহুল ব্যাধির জন্য এই অনুদান দেওয়া হয়, সেগুলো হলো ক্যানসা র, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদ্রোগ ও থ্যালাসেমিয়া।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, সমাজের প্রত্যেক নাগরিককে আর্থিক সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসা এবং কেউ যেন উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত না হয়, তা সরকার নিশ্চিত করবে। ওই ছয়টি দুরারোগ্য ব্যাধির সহায়তায় উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৫ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গর্ভবতী মা এবং নবজাতকদের সুরক্ষায় ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’র মাধ্যমে মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বৃদ্ধি করে মোট ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন করার এবং এ খাতে ১ হাজার ৯৪৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আর্থিক অনুদান সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট আবেদন ফরম পূরণ করে চিকিৎসাধীন রোগীরা এই সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সনদ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে অনুদানের টাকা সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।