হোম > অর্থনীতি

নতুন কর্মী কম যাচ্ছেন, বেশি ডলার আসছে

জয়নাল আবেদীন খান, ঢাকা 

প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও শ্রমবাজারের অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, টানা পাঁচ মাস ধরে রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। যেখানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন কর্মী পাঠানো কমে গেছে এবং জনশক্তি রপ্তানিতে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে, সেখানে প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিকতা অর্থনীতিতে সাময়িক স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের দৃঢ় অবস্থানকেই তুলে ধরছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩.১৩ বিলিয়ন ডলার। এর আগের মাস মার্চে তা ছিল রেকর্ড ৩.৭৬ বিলিয়ন ডলার, যা মূলত ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের বাড়তি অর্থ পাঠানোর প্রভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরও আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩.০২ বিলিয়ন ডলার, জানুয়ারিতে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩.২২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে পাঁচ মাস রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী প্রবাহ। গত নভেম্বরেও এই ধারা অব্যাহত ছিল ২.৮৯ বিলিয়ন ডলার নিয়ে, আর অক্টোবর-সেপ্টেম্বরে তুলনামূলক নিম্ন হলেও রেমিট্যান্সের এই প্রবণতায় স্থিতিশীল প্রবাহই বজায় ছিল।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. তাসনীম সিদ্দিকী মনে করেন, প্রবাসী আয় এখন অর্থনীতির অন্যতম স্থিতিশীল স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। এই বাস্তবতায় তাঁর মতে, সরকারকে নতুন কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া জটিলতা দ্রুত সমাধানে আন্তরিক হতে হবে।

একই সঙ্গে মাসিক রেমিট্যান্স প্রবাহ যেন সাড়ে তিন থেকে চার বিলিয়ন ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল থাকে এবং হঠাৎ ওঠানামা কমে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজর আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে নীতি সহায়তা জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার, যাতে এই প্রবাহ আরও স্থায়ী ও পূর্বানুমেয় হয়ে ওঠে।

এদিকে মাসওয়ারি এই ধারার পাশাপাশি অর্থবছরভিত্তিক চিত্রও ইতিবাচক। জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে ১০ মাসে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৯.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ২৪.৫৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৯.৫৪ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যদিও শ্রমবাজার সম্প্রসারণে ধীরগতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ বলছে, গত কয়েক মাসে রেমিট্যান্স বাড়ার পেছনে মূল কারণ হলো ব্যাংকিং চ্যানেলের ওপর আস্থা বেড়েছে এবং হুন্ডিসহ অনানুষ্ঠানিক অর্থ আসার পথ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পাশাপাশি আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিংয়ের মতো অপব্যবহার কমায় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলে ফিরছে। ঈদসহ মৌসুমি প্রভাবও সাময়িকভাবে প্রবাহ বাড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম মনে করেন, এই ধারা ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে হবে।

অন্যদিকে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের গবেষক ও অর্থনীতিবিদ হেলাল আহমেদ জনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়া দেশের জন্য ইতিবাচক একটি ইঙ্গিত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

দীর্ঘ খরা শেষে গতি ফিরল রপ্তানি আয়ে

টানা তৃতীয়বারের মতো তেল উৎপাদন বাড়াতে সম্মত হয়েছে ‘ওপেক-প্লাস’

বিএসটিআইয়ের নতুন মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক

জনতা ব্যাংকে বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স উদ্বোধন

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন: ভোট গণনার আগে আবারও বন্ধ বুড়িমারী স্থলবন্দর

মে মাসের এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ, কার্যকর সন্ধ্যা থেকে

ঢাকায় দ্রুত ওষুধ ডেলিভারি দিতে চুক্তি করল গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেড ও ফুডি

নেপালে ওয়ালটন গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউটর মিট-২০২৬ অনুষ্ঠিত

ব্যাংকঋণ পরিস্থিতি: সরকারি ঋণেই আগ্রহ বেশি ব্যাংকের

হাইব্রিড-ইভি গাড়িতে শুল্ক কমানোর দাবি বারভিডার