বন্ধ কলকারখানা চালুকরণ, কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গাকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি স্টিমুলাস প্যাকেজ বা উদ্দীপনা বরাদ্দ ঠিক করেছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট বাজেট বক্তব্য এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। ২০২০ সালে কোভিড মহামারি মোকাবিলায় এই ধরনের একটি প্যাকেজ চালু করা হয়েছিল।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশীয় কৃষি খাত, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, এসএমই শিল্প এবং রুগ্ণ ও বন্ধ কলকারখানাগুলোর জন্য সহজ শর্তে এবং পুনর্গঠন পদ্ধতিতে ঋণ প্রদানের উদ্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার স্টিমুলাস প্যাকেজ-২০২৬ ঘোষণা করেছে। ওই প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা রিফাইন্যান্সিং তহবিল এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল।
তহবিলের আওতায় ৫টি প্যাকেজ। এগুলো হচ্ছে—বন্ধ কলকারখানা চালুকরণ ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১০ হাজার কোটি টাকা। সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা। রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা।
এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লক্ষাধিক নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে আশা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্কিম থেকে উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধন সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি প্রদান করা হবে। ফলে, এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ গ্রহণের বিপরীতে উদ্যোক্তাদের প্রকৃত সুদের হার বিদ্যমান বাজারভিত্তিক সুদ অপেক্ষা অর্ধেকেরও কম হবে, যা শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে এবং বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে আমাদের সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
এ ছাড়া এসএমই খাতের বিকাশে এ সেক্টরে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ইডকল, বিআইএফএফএল এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।