দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘ মেয়াদে আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতাসক্ষম এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে কর ও শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের রূপান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অটোমেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এবারের বাজেটের প্রধান আকর্ষণ হলো ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য আগামী ৫ বছরের একটি সুনির্দিষ্ট ও প্রগতিশীল করমুক্ত সীমার রোডম্যাপ ঘোষণা করা। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) প্রসার এবং দেশীয় শিল্পকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করতে কাস্টমস আইনে কিছু প্রস্তাব আনা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর কল্যাণে একাধিক বড় ধরনের ছাড়ের প্রস্তাব এসেছে:
কিডনি ডায়ালাইসিস: কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ১৫% ভ্যাট এবং ৫% অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে রোগীদের ব্যক্তিগত খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমে আসবে।
ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদন: দেশে ক্যানসার প্রতিরোধী আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ তৈরি করতে আরও ৯টি নতুন কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ফার্মাসিউটিক্যালস (এপিআই): স্থানীয়ভাবে ওষুধ তৈরির কাঁচামাল (Active Pharmaceutical Ingredient) উৎপাদনে ৫১টি নতুন কাঁচামালের এবং ওষুধ শিল্পের আরও ১৭টি মৌলিক কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্বাধীন চলাচলের জন্য ব্যবহৃত ২১ ধরনের সহায়ক উপকরণ (Special Assistive Device) আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধীদের জন্য আমদানিকৃত ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়কর ২% থেকে কমিয়ে ১% করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মর্চুয়ারি আমদানিতে শুল্ক হ্রাস: মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য মর্চুয়ারি আমদানিতে বিদ্যমান ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক হ্রাস করে মাত্র ১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
জনকল্যাণে দান ও রেয়াত: স্বাস্থ্য, অটিজম, ক্যানসার, থ্যালাসেমিয়াসহ সামাজিক কল্যাণে নিয়োজিত ১১টি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে করদাতাদের দানকে উৎসাহিত করতে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।