হোম > অর্থনীতি

ব্যয় বাড়ছে সিমেন্টে, কমছে বাজার

 আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম

একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে বাজার। ফলে দেশের সিমেন্টশিল্প এখন দ্বিমুখী চাপে পড়েছে। নির্মাণ খাতে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং ব্যক্তিপর্যায়ে বাড়িঘর নির্মাণ কমে যাওয়ার কারণে সিমেন্টের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে কাঁচামালের আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, উচ্চ সুদের হার, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয়ের চাপ উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সিমেন্টশিল্প ক্রমেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষায়, দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন খাত হিসেবে পরিচিত সিমেন্টশিল্প বর্তমানে তার সামর্থ্যের অনেক নিচে পরিচালিত হচ্ছে। কারখানাগুলোর বিপুল উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাজারে সেই পরিমাণ চাহিদা নেই। এতে উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ অলস পড়ে থাকছে, যা শিল্পের লাভ খেয়ে ফেলছে এবং তার টেকসই পরিচালনার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ) সূত্রে জানা যায়, দেশে বর্তমানে ৪০টি সিমেন্ট কারখানার মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৮৬ মিলিয়ন টন। কিন্তু ২০২৫ সালে মোট বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩৯ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ দেশের মোট উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি অব্যবহৃত থেকে গেছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে বিক্রি আরও ৩ শতাংশ কমেছে, যা বাজার পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজের গতি কমে এসেছে। একই সঙ্গে আবাসন খাতে নতুন বিনিয়োগও প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। উচ্চ সুদের হার এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকল্প গ্রহণ থেকে বিরত থাকছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সিমেন্টের বাজারে।

বিসিএমএর প্রেসিডেন্ট এবং চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, সিমেন্টশিল্প বর্তমানে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, চাহিদা হ্রাস, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, উচ্চ অর্থায়ন ব্যয়সহ নানা প্রতিকূলতার সম্মিলিত চাপে রয়েছে। শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য দ্রুত নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।

মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, দেশের সিমেন্টশিল্প মূলত আমদানিনির্ভর। ক্লিংকার, স্ল্যাগ, চুনাপাথর, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসামের মতো প্রধান কাঁচামালের প্রায় সবই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে জ্বালানি তেল ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ বেড়েছে। ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদের হারও উদ্যোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম ১৬ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে। বিদ্যমান কর ও শুল্ককাঠামোকেও তাঁরা শিল্পবান্ধব নয় বলে মনে করছেন। উদ্যোক্তাদের দাবি, কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) কমানো, বিক্রয় পর্যায়ে করের চাপ হ্রাস এবং শিল্পবান্ধব নীতিসহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিসিএমএ নেতারা বলছেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনা, নির্মাণ ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর-শুল্ককাঠামো পুনর্বিবেচনা এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ছাড়া শিল্পটির ওপর চাপ কমবে না। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প খাত আরও গভীর সংকটে নিমজ্জিত হতে পারে।

দেশজুড়ে ৭ শতাধিক ওয়ালটন প্লাজায় মেডিকেল ক্যাম্প, ফ্রি চিকিৎসাসেবায় বিশেষ হটলাইন

চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার এজিএম অনুষ্ঠিত

এনসিসি ব্যাংকের ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত, ২১ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

ঢাকা ওয়াসার বার্ষিক প্রতিবেদন এমডির কাছে হস্তান্তর

খেলাপি ঋণ উদ্ধারে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু—সংসদে অর্থমন্ত্রী

দেশে ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ১৯ কোটি ৩২ লাখ: সংসদে অর্থমন্ত্রী

গ্রামীণফোন, টেলিটক, রবি, বাংলালিংকের কাছে সরকারের পাওনা ১৩ হাজার কোটি টাকা

পাঁচ ইসলামি ব্যাংক নিয়ে সংসদে একাধিক প্রশ্ন

মুদিদোকান ও বিউটি পারলার আসছে ভ্যাটের আওতায়

সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমল ৫৪৮২ টাকা