হোম > অর্থনীতি

১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন: সরকারি ঋণের চাপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রবৃদ্ধির গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের মধ্যে নীতিগত সমন্বয় জরুরি। মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি ও বাণিজ্য নীতিকে পরস্পরের সহায়ক করে পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার প্রশ্নে ব্যাংক খাতে সুশাসন ফেরানো, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বিতরণ বন্ধ এবং প্রকৃত উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মিলনায়তনে ‘১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে এসব বিষয় উঠে আসে। দুই দিনের এই সম্মেলনে ব্যাংকিং খাতের সংকট, সংস্কারের চ্যালেঞ্জ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফেরানোর নীতিগত দিকগুলো গুরুত্ব পায়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ ঋণ নেওয়ায় মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নীতিগুলোর মধ্যে অধীনতামূলক সম্পর্কের পরিবর্তে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অর্জনে মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি ও বাণিজ্য নীতির পৃথক ভূমিকা তুলে ধরে জায়েদী সাত্তার বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি, প্রবৃদ্ধিতে সহায়তায় রাজস্ব নীতি এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে নমনীয় বিনিময় হার নীতি অনুসরণ করা উচিত। ২০২২ সালের মে মাস থেকে টাকার প্রায় ৪০ শতাংশ অবমূল্যায়নের প্রভাব মোকাবিলায় শুল্ক হ্রাস বা ‘কমপেনসেটেড ডেপ্রিসিয়েশন’ গ্রহণের সুপারিশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি ও আমদানি প্রবৃদ্ধিতেও গতি আসতে পারে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যাংক খাতের সংকটের পেছনে নীতিগত দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ১৯৮০-এর দশকে কার্যকর নিয়ন্ত্রণকাঠামো তৈরি না করেই বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ২০১০ সালের পর ব্যাংক খাতে ঋণখেলাপির সংস্কৃতি থেকে আরও ভয়াবহ ‘লুটপাটের সংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছে।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, শুধু কঠোর আইন দিয়ে ব্যাংক খাতের সংস্কার সম্ভব নয়। ব্যাংকার ও শিল্পোদ্যোক্তাদের ন্যূনতম নৈতিকতা ও মূল্যবোধ থাকতে হবে। আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সুবিধা বিতরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। দুর্বল ব্যাংক পুনরুদ্ধারে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার প্রয়োজন হতে পারে, তবে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সৎ ও প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে অর্থ পৌঁছানোও জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদ বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ায় ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ব্যাংক খাতের ওপর আস্থা ফেরাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ১৫টি ব্যাংকের সম্পদের মান পর্যালোচনা (একিউআর) করা হয়েছে। এই কার্যক্রম চলবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনাদায়ি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর আশা করা হচ্ছে। এ জন্য বিশেষ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন ও মানি অ্যাক্ট প্রণয়নের কাজ চলছে। ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

এই আলোচনায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি ও কারখানা সম্প্রসারণে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। পিএমআই ৪৮-এ নেমে আসা অর্থনৈতিক সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ৯ দশমিক ৫ শতাংশ নীতি সুদহারও অর্থনীতিতে সংকোচনমূলক নীতির প্রভাব ফেলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিতেও একধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে গতি ফেরাতে সরকারি মেগা প্রকল্পগুলো চালুর আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, দেশের অর্থনীতির সিংহভাগ অর্থায়ন আসে বেসরকারি ব্যাংক থেকে। তাই সংস্কারের নীতি এমন হতে হবে, যাতে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা অর্থায়ন পান এবং ব্যাংকের পরিচালন সক্ষমতা বজায় থাকে।

সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান প্রধান জিন পেসমে ব্যাংকের সম্পদের মান পর্যালোচনা এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এযাজুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন কনফারেন্স অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জি।

ইউআইইউতে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ইনডাকশন ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

২০২৭ সালে ঢাকায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বিজনেস সামিট

হাল ফ্যাশন ও এনেক্সের অংশীদারত্বে ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলে নতুন সম্ভাবনা

টানা পতনের পর এবার সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী, ভরিতে যত হলো

পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, পিছিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য

সরকারি ব্যাংকের মধ্যে প্রথম মাস্টারকার্ডের লাইসেন্স পেল বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ চায় বিএসআরইএ

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার মামলা: সাবেক রাষ্ট্রপতিসহ ২০ জনের তদন্ত প্রতিবেদনের তারিখ পেছাল

এআইতে বদলে যাচ্ছে চীনের কৃত্রিম হীরার বাজার

মেট্রোরেল প্রকল্পে কয়েক হাজার কোটি টাকার কাজ পেল ভারতীয় প্রতিষ্ঠান