ওয়াশিংটনের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে বহুল আলোচিত ও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বাণিজ্য চুক্তিটি আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরের প্রত্যাশা করছে ঢাকা। এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, প্রস্তাবিত এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক কমানোসহ দ্বিপক্ষীয় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের নানা বিষয় ও মানদণ্ড চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যসচিব এসব কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ আলোচনার পর চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে একটি বাস্তব সময়সূচি সামনে এসেছে, যা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর গড়ে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কহার ধার্য রয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন চুক্তির মাধ্যমে এই হার আরও কমে ১৫ শতাংশ শুল্কস্তরে নেমে আসতে পারে। তবে চুক্তি সই হওয়ার আগে কোনোটিই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
বাণিজ্যসচিব বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারির সম্ভাব্য তারিখ ইতিমধ্যে পাওয়া গেছে। এ লক্ষ্যে চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত তারিখেই স্বাক্ষরের অনুমোদন চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে সে অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, আলোচনায় বোয়িং থেকে বেসামরিক উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি থাকলেও যুদ্ধবিমান ক্রয় এই চুক্তির অংশ নয়।
এ সময় ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যসচিব। তাঁর ভাষায়, জাপানের সঙ্গে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের এফটিএ সই হওয়ার কথা রয়েছে, যার খসড়া আগেই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যেই এফটিএ সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছেও এফটিএর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা এখন বিবেচনাধীন। সার্বিক বাস্তবতায় তৈরি পোশাক খাতে ভারতকে বাংলাদেশ সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছে না। এ ক্ষেত্রে আমাদের যে সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, তা রাতারাতি অন্য কোনো দেশ অর্জন করতে পারবে না।