বিয়ে করতে ইতালি থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় হাজির হয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী আলি সান্দ্র চিয়ারো মিনতে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রত্না রানী দাসের (১৯) সঙ্গে হিন্দু রীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়।
রত্না রানী দাস বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের খোকোপাড়া গ্রামের দিনমজুর মারকুস দাসের মেয়ে। বর ইতালিতে একটি কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রত্না রানী দাসের বাবা মারকুস দাস বলেন, ‘জোসেফ দাস নামে আমার এক ভাই দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ ইতালিতে বসবাস করছে। আমার ভাই যে কোম্পানিতে কাজ করে সেই কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আমার নতুন জামাই আলি সান্দ্র চিয়ারো মিনতে। নয় মাস আগে বিয়ের জন্য বাংলাদেশি পাত্রীর সন্ধান করলে আমার মেয়ের ছবি দেখায় আমার ভাই। ছবি দেখে পছন্দ হলে পরে মোবাইল ফোনে আমাদের মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কথা বলা শুরু হয়। এরপর মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে সুসম্পর্ক তৈরি হলে দুই পরিবারে সম্মতিতে বিয়ের দিন তারিখ ধার্য করা হয়। ভিসা এবং বাংলাদেশের আসার দিন তারিখ নির্ধারণ হলে আমরা নিজ বাড়িতে সোমবার বিয়ে আয়োজন করি। বর দুপুরে আসার পর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দিই।’
বিদেশি জামাই পেয়ে উচ্ছ্বসিত রত্না রানীর মা জানকি দাস। তিনি বলেন, ‘ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন এবং প্রতিবেশী-আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। আমার জামাই আমার মেয়েকে নিয়ে যাবে ইতালিতে। পরে আমরাও পুরো পরিবার ইতালিতে যাব।’
কীভাবে পরিচয় হলো জানতে চাইলে রত্না রানী বলেন, ‘কাকার কাছ থেকে ছবি দেখার পর মোবাইলে এবং ইমোতে যোগাযোগ করে কথা বলা শুরু করি। আমাদের সম্পর্ক হয়ে যায়। আমরা প্রায় নয় মাস ধরে মোবাইলে কথা বলি। আমার চাচার শেখানো ইতালির ভাষা দিয়ে তার সঙ্গে আমি কথা বলি। তারপরে গতকাল আমাদের বিয়ে হয়। জামাই হিসেবে তিনি অনেক ভালো মনের মানুষ। তিনি সবকিছু মানিয়ে নিতে চেষ্টা করেন। বর্তমানে আমরা দুজনেই একে অপরের দেশের ভাষা শেখার চেষ্টা করছি।’
চাড়োল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলিপ কুমার চ্যাটার্জী বাবু বলেন, ‘ইতালির ছেলেটির সঙ্গে একই কোম্পানিতে খোকোপাড়া গ্রামের মেয়েটির চাচা কাজ করেন। সে ছেলের মাধ্যমেই দুজনের পরিচয়। গতকাল বিয়ে হয়। আমি নিজেও বিয়েতে ছিলাম। এক সপ্তাহ থাকার পর ইতালির যুবক নিজ দেশে ফিরবেন। যত দূর জানি ভিসা সংক্রান্ত কাজ শেষ করে মেয়েটিকে ইতালি নিয়ে যাবেন।’
বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল আনাম বলেন, ‘ইতালির যুবক এসে বিয়ে করেছেন। এটি স্থানীয় চেয়ারম্যান আমাকে জানিয়েছেন। এখানে আইনি কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’