হোম > সারা দেশ > টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে ওষুধ কেলেঙ্কারী

মূল অপরাধীদের বাঁচাতে চালকের বিরুদ্ধে চুরির মামলা, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 

পিকআপ চালক আজমতের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের। ছবি: আজকের পত্রিকা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি ওষুধ কেলেঙ্কারির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া এবং মূল অভিযুক্তদের বাঁচানোর জন্য পিকআপচালক আজমতের বিরুদ্ধে চুরির মামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন শ্রমিকেরা। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তাঁরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আজ শুক্রবার দুপুরে আজমতকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পিকআপচালক আজমতের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রমিকেরা। আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের ঘাটাইল খাদ্যগুদামের সামনে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের পর শ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে তাঁরা পিকআপচালকের বিরুদ্ধে করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার এবং তাঁর মুক্তির দাবি জানান।

বাস মালিক সমিতির ঘাটাইল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মুকুল বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লোকজন পিকআপটি ভাড়া নিয়েছিলেন। হাসপাতালের কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকারি ওষুধ জনসাধারণকে না দিয়ে মজুত রেখে মেয়াদোত্তীর্ণ করেছেন। পরে ওই ওষুধ নদীতে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

রুহুল আমিন মুকুল বলেন, ‘এখানে চালকের কোনো দোষ নেই। চালক কেন জেলে থাকবে, জেলে থাকবে মূল অভিযুক্তরা।’ তিনি চালকের মুক্তি দাবি করেন।

ওষুধ কেলেঙ্কারিতে জড়িত প্রধান অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে।

রায়হান খান নামে একজন লিখেছেন, ‘আইন হচ্ছে মাকড়সার জালের মতো, যেখানে দুর্বল ও গরিবরা আটকে যায় আর ধনী ও শক্তিশালীরা তা ছিঁড়ে বেরিয়ে যায়।’

রুবেল নামে একজন লিখেছেন, ‘ড্রাইভার একজন শ্রমিক মাত্র। তিনি পেটের দায়ে গাড়ি চালান। তাঁকে কেন এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে? বড় বড় রাঘববোয়াল রেখে চুনোপুঁটিকে দায় দিয়ে এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া যাবে না।’

রুবেল আরও লিখেছেন, ‘সকল মেহনতি মানুষকে, প্রতিবাদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। হাসপাতালের অসাধু কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

তাহসান হাফিজ নামে আরেকজন লিখেছেন, ‘ড্রাইভারকে সামনে এনে আসল চোরদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।’

এ বিষয়ে গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত বুধবার গভীর রাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি ওষুধভর্তি বস্তা পিকআপে করে নিয়ে ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে ফেলার সময় এলাকাবাসী তা দেখে ফেলে এবং পিকআপটি আটক করে। পরে পুলিশ চালককে আটক করে পিকআপ ও ওষুধ থানায় নিয়ে যায়।