হোম > সারা দেশ > টাঙ্গাইল

হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে পোস্ট, সাংবাদিককে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ‘অশালীন’ জবাব

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি 

ডা. লুৎফর রহমান আজাদ। ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসক সংকট নিয়ে সাংবাদিকের করা ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে ওই সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় পোস্ট করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরের ভূঞাপুর প্রতিনিধি আসাদুল ইসলাম বাবুল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। পরে ওই পোস্টের স্ক্রিনশট দিয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিককে ‘বেয়াদব’, ‘ধান্দাবাজ’, ‘ভণ্ড’, ‘ছোটলোক’সহ বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ।

এ ঘটনায় ভূঞাপুর প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা নিন্দা জানিয়েছেন।

সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল তাঁর ফেসবুক পোস্টে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নজর না দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সভা ও মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। পাশাপাশি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে সময় কাটানোর অভিযোগও করেন তিনি।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের ফেসবুক পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ তাঁর ফেসবুক আইডিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা নামে একটা সাবজেক্ট আছে, যেখান থেকে পড়াশোনা করে সাংবাদিক হওয়ার কথা। কিন্তু আফসোস! এসব বকলম লোকজন সাংবাদিক হয় এ দেশে। ওরা ঘোষণা দিয়ে গত ১০ মাস ধরে আমার পেছনে লেগে আছে। এদের দুঃসাহস চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা চরের মানুষ নিজেদের মেধা, পরিশ্রম আর যোগ্যতা দিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছি। ভূঞাপুরের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের চরের মানুষের। এই বেয়াদব, ছোটলোকগুলো কীভাবে চরের মানুষকে নিয়ে মন্তব্য করার সাহস পায়, আমার জানা নেই। চরের মানুষ হিসেবে আমি গর্বিত।’

একই পোস্টে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে আরও কয়েকটি আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেন এবং তাঁর অনুসারীদের ওই সাংবাদিকের পোস্টে গিয়ে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।

সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অশালীন ভাষায় ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। এটি সরকারি চাকরির আচরণবিধিরও লঙ্ঘন।’

ভূঞাপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা এবং প্রশ্ন তোলা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কোনো সাংবাদিকের বক্তব্য বা তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তথ্য-প্রমাণসহ তার জবাব দেওয়া। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একজন সাংবাদিককে গালিগালাজ এবং সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। আমরা এর নিন্দা জানাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’